kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

শিশুদের মসজিদে আনার বিধান

সাআদ তাশফিন   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তাই তাদের সন্তানরা ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া উচিত, তবেই তারা আস্তে আস্তে নামাজে অভ্যস্ত হবে। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির প্রতি উৎসাহী হবে। অন্যথায় শুধু কার্টুন-গেম ইত্যাদির নেশা তাকে ছোটবেলা থেকেই ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে, যা তার পরবর্তী জীবনেও খুব বাজেভাবে প্রভাব ফেলবে। তাই রাসুল (সা.) নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের নামাজের প্রতি উৎসাহী করে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের সাত বছর বয়স থেকেই নামাজের নির্দেশ দাও। আর যখন ১০ বছর বয়সে উপনীত হবে, তখন তাদের নামাজে অবহেলায় শাস্তি প্রদান করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

তবে একেবারে অবুঝ শিশুদের মসজিদে আনার অনুমতি নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের মসজিদকে অবুঝ শিশু ও পাগলদের থেকে দূরে রাখো, তদ্রুপ ক্রয়-বিক্রয়, বিচার-আচার, উচ্চৈঃস্বর, দণ্ডদান ও তরবারি কোষমুক্ত করা থেকে বিরত থাকো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৫০)

তবে যেসব বাচ্চার মসজিদের পবিত্রতা বোঝে, নামাজে বিঘ্ন ঘটায় না, তাদের মসজিদে নিয়ে আসা প্রশংসনীয় কাজ। তাদের মসজিদের কাতারে দাঁড় করানোর ব্যাপারে বিশেষ মাসআলা রয়েছে। বুঝ হয়েছে, এমন নাবালেগ শিশুদের ব্যাপারে বিধান হলো—যদি শিশু একজন হয়, তাহলে তাকে বড়দের কাতারেই সমানভাবে দাঁড় করাবে। এ ক্ষেত্রে বড়দের নামাজের কোনো অসুবিধা হবে না। একাধিক শিশু হলে সাবালকদের পেছনে পৃথক কাতারে দাঁড় করানো সুন্নত। তবে হারিয়ে যাওয়া বা দুষ্টুমি করার আশঙ্কা হলে বড়দের কাতারেও দাঁড়াতে পারবে। (আল বাহরুর রায়েক : ১/৬১৮, আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৭১, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৪০৩)

গ্রামে-গঞ্জে অনেকের এ ধারণা আছে যে নাবালেগ শিশুদের বড়দের কাতারের মধ্যে দাঁড় করালে পেছনের মুসল্লিদের নামাজ হয় না বা নামাজ ত্রুটিযুক্ত হয়, আসলে ব্যাপারটি সে ধরনের নয়। বরং যদিও জামাতের কাতারের সাধারণ নিয়ম ও সুন্নত হলো, প্রাপ্তবয়স্করা সামনে দাঁড়াবে ও অপ্রাপ্তবয়স্করা পেছনে থাকবে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে নামাজ অশুদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ জন্য শিশু একা হলে বা পেছনে দুষ্টুমির আশঙ্কা থাকলে বড়দের কাতারে সমানভাবে দাঁড় করানোই উত্তম। এতে করে সে শান্তভাবে নামাজ পড়বে। অভিভাবকও নিশ্চিন্তে নামাজ পড়তে পারবে।

নেক সন্তান তার অভিভাবকের জন্য সদকায়ে জারিয়া। তাই শিশুদের ছোটবেলা থেকে দ্বিনি পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যারা বুঝদার শিশু, তাদের মসজিদে নিয়ে ইসলামী পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা উচিত। ছোট থেকেই যদি তারা নামাজে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, বাকি জীবনও তারা নামাজের প্রতি যত্নবান হবে, ইনশাআল্লাহ।