kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

এসো শিখি ইসলাম

মাকামে মাহমুুদ কী

মুফতি তাজুল ইসলাম   

২৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাকামে মাহমুদ শব্দের অর্থ প্রশংসার উঁচুস্তর বা মর্যাদার উচ্চস্তর। মাকামে মাহমুদের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদদের মধ্যে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। বেশির ভাগ তাফসিরবিদের মতে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন মহানবী (সা.)-কে উম্মতের জন্য সুপারিশ করার সুযোগ দেবেন। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে শাফাআত বলা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.)-এর কাছে মাকামে মাহমুদের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, এটি হলো শাফাআত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩১৩৭)

আরবি অভিধানবিদ ইবনুল আসির ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে লিখেছেন, হাদিসের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শাফাআত শব্দটি বারবার আলোচিত হয়েছে। এর অর্থ অন্যায় ও অপরাধ থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারে আবেদন-নিবেদন করা। ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস মতে, শাফাআত বা সুপারিশের পূর্ণ মালিকানা আল্লাহর। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, সব শাফাআত আল্লাহর ক্ষমতাধীন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৪৪)

তবে কোরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবী (সা.) ও তাঁর উম্মতের বিশেষ ব্যক্তিদের শাফাআত বা সুপারিশ করার বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে। এ ধরনের শাফাআতের দুটি শর্ত আছে—এক. আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফাআতকারীর জন্য শাফাআত করার অনুমতি থাকতে হবে। যেমন—মহান আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে এমন, যে তাঁর (আল্লাহর) কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া শাফাআত করবে?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

দুই. যার জন্য শাফাআত করা হবে, তার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা শুধুমাত্র তাদের জন্য সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৮)

আল্লাহর অনুমতিতে মহানবী (সা.) কিয়ামতের দিন শাফাআত করবেন। বিষয়টি একাধিক হাদিসে এসেছে। আদম বিন আলী (রহ.) বলেন, আমি ইবনে ওমর (রা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সব মানুষ নিজ নিজ নবী-রাসুলের পেছনে পেছনে দলে দলে চলতে থাকবে। তারা বলতে থাকবে, হে নবী, আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। হে নবী, আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। এভাবে বলতে বলতে শাফাআত বা সুপারিশের দাবি মহানবী (সা.) পর্যন্ত পৌঁছবে। তিনি যে সুপারিশের ক্ষমতা পাবেন, এটাই মাকামে মাহমুদ। মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন মহানবী (সা.)-কে তা দান করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৪৪১)