kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নবী-জীবনী

নবীজিকে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি

২৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মহানবী (সা.)-কে ইসলাম প্রচার থেকে বিরত রাখতে মক্কার মুশরিকরা হুমকি-ধমকি, প্রলোভন, গালমন্দ করা থেকে সর্বপ্রকার অবিচার দিয়েছে। কুরাইশের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নবীজিকে কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। যাদের খুব কম সংখ্যকেরই ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিল; বরং তাদের বেশির ভাগেরই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল। নবীজিকে কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে আবু লাহাব অন্যদের তুলনায় এগিয়ে ছিল। মক্কায় গঠিত ২৫ সদস্যবিশিষ্ট ‘মুসলিম দমন কমিটি’র প্রধানও ছিল সে। আবু লাহাব ছাড়াও কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে ছিল আবু জাহল, হাকাম ইবনে আবুল আস, উকবা ইবনে আবু মুয়িত, আদি ইবনে হামরা, সাকাফি ইবনে আসদা, আস ইবনে ওয়াইল, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুস, আসওয়াদ ইবনে আবদুল মুত্তালিব, ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা, ওয়ালিদ ইবনে হারিস। তাদের মধ্যমে হাকাম ইবনে আবুল আস ছাড়া আর কারো ইসলাম নসিব হয়নি। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১০৩; সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা ৩০)

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর উল্লিখিত শত্রুদের মধ্যে উমাইয়া ইবনে খালাফ, নাবিয়া, মুনাব্বিহ ও আবু জাহলের মৃত্যু হয়েছিল বদর যুদ্ধের সময়; বদর যুদ্ধের সাত দিন পর শরীরে পচন ধরে মারা যায় আবু লাহাব। সংক্রমণের ভয়ে মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তার লাশ তিন দিন পর্যন্ত ফেলে রাখে। অতঃপর কিছু কৃষ্ণাঙ্গ দাসের মাধ্যমে গর্ত খুঁড়ে তাকে পুঁতে রাখা হয়; উবাই ইবনে খালাফ উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর হাতে নিহত হন; উকবা ইবনে আবু মুয়িত বদরের যুদ্ধে বন্দি হওয়ার পর নিহত হয়; ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা দুই বছর পায়ের এক ঘায়ে ভুগে মারা যায়; আস ইবনে ওয়ায়েলের মৃত্যু হয় বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে। বিষাক্ত প্রাণী দংশন করার পর আগে পা ফুলে উটের গর্দানের সমান হয়ে গিয়েছিল; আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যায়; হারিস ইবনে কায়েস নোনা তিমির গোশত খেয়েছিল। এতে তার পিপাসা এত বেড়ে যায় যে পানি পান করতে করতে তার মৃত্যু হয়। এভাবে যারা নবীজি (সা.)-কে কষ্ট দিয়েছিল তাদের সবাই করুণ পরিণতি ভোগ করে মারা গিয়েছে। (বিস্তারিত দেখুন : সিরাতে মোস্তফা : ১/২০৩-২১৭)

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু।