kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

জাপানের বিস্ময়কর কোবে মসজিদ

হাবিবা রহমান উজরা   

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাপানের বিস্ময়কর কোবে মসজিদ

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে, জাপানে ইসলামের পদার্পণ হয় খ্রিস্টীয় ১৭ শতকে। এ শতাব্দীর জাপানি ইতিহাসেই প্রথম মুসলিমদের বিবরণ পাওয়া যায়। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় আরো পরে। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ সম্প্রীতির অংশ হিসেবে উসমানীয় নৌ-বাহিনীর ফিগ্রেট ‘আর্তুগুল’ জাপানে পাঠান। ফেরার পথে ওয়াকায়ামা উপকূলে সমুদ্র ঝড়ের কবলে পড়ে তা ডুবে যায় এবং শতাধিক আরোহী নিহত হয়। শুধু ৯৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তাদের কোবে শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের দুটি জাপানি কোর্ভেটে করে ইস্তাম্বুল পাঠানো হয়।

বর্তমানে মুসলিম সংখ্যা : জাপানে দ্রুত বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। বর্তমানে জাপানে আড়াই লাখের মতো মুসলিম এবং দুই হাজারেরও বেশি মসজিদ ও নামাজঘর রয়েছে। ২০১০ সালে জাপানের মুসলমানের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার। ধারণা করা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯-এর শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার জাপানি মুসলিম হয়েছে।

জাপানে মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস : রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর বিপুলসংখ্যক তাতার মুসলিম রাশিয়া থেকে জাপানে আশ্রয় নেয়। তারা ১৯৩৮ সালে টোকিওতে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মসজিদটি ভেঙে তুর্কি সাহায্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়। টোকিও মসজিদের আগেও জাপানে মসজিদ ছিল। রুশ-জাপান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলিম সেনারা ১৯০৫ সালে ওসাকা দ্বীপে জাপানের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করে। তবে মসজিদটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ১৯৩১ সালে নাগোয়াতেও একটি মসজিদ নির্মিত হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে যায়। জাপানি মসজিদগুলোর মধ্যে আয়তন ও নির্মাণশৈলীতে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার টোকিওতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদটি ২০০০ সালে উদ্বোধন করা হয়।

কোবে মসজিদের বিস্ময় : প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোবে মসজিদ তিনটি ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলা করেছে। তা হলো—এক.  ১৯৩৮ সালের ভয়াবহ কোবে বন্যা, দুই. ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়াবহ মার্কিন বোমাবর্ষণ, তিন. ১৯৯৫ সালের ‘গ্রেট হানসিন’ ভূমিকম্প। এ ভূমিকম্বে জাপানে ছয় হাজার চার শ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ জাপানে এত বড় বিপর্যয়ের পরও টিকে থাকা এক জীবন্ত বিস্ময়।

বিস্ময়কর মসজিদ যেভাবে নির্মিত হয় : চেক স্থপতি জান জোসেফ সগ্রার কোবে মসজিদের নকশা করেন। ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য রীতিতে তিনি তা নির্মাণ করেন। অভ্যন্তরীণ নকশায় জ্যামিতিক ও ইসলামিক প্যাটার্ন ব্যবহার করেন। তিনতলাবিশিষ্ট এ মসজিদে রয়েছে বৃহৎ গম্বুজ এবং দুটি মিনার। তুর্কি রীতিতে নির্মিত নিচু মেহরাবকে সজ্জিত করা হয়েছে সোনালি রং ও শ্বেত পাথর দিয়ে। মসজিদে নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক নামাজের স্থান।

তথ্যসূত্র : মিডলইস্ট মনিটর ও দি ইকোনোমিস্ট।