kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

যেভাবে আলী (রা.) শাহাদাতবরণ করেন

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আলী (রা.)-এর শাসনামলে খারেজি সম্প্রদায়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। অবশেষে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে খারেজিরা কঠিনভাবে পরাজিত হয়। তার পরও খারেজিদের তিন নেতা আবদুর রহমান ইবনে মুলজাম, হাজ্জাজ ও আমর ইবনে বকর মক্কায় মিলিত হয়ে যুদ্ধে নিহত খারেজিদের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করে। তারা বলে, আমরা বেঁচে থেকে কী করব, যদি না আমরা আলীকে হত্যা করতে পারি!  অতঃপর তারা তিনজন আলী, মুআবিয়া ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে হত্যা করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল। তারা হত্যা করার দিন ধার্য করে। ইবনে মুলজাম কুফার শাবিব বিন বাজরা আশজাঈকে বলল, হে শাবিব, তুমি কি দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা চাও? তাহলে আলীকে হত্যা করার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করো।

সে বলল, তোমার ধ্বংস হোক! কিভাবে তুমি এ কাজে সক্ষম হবে? সে বলল, তাঁর কোনো পাহারাদার নেই। তিনি একাকী সালাতে বের হন। আমরা তার জন্য মসজিদে লুকিয়ে থাকব। অতঃপর যখন তিনি সালাতে বের হবেন, আমরা তাঁকে হত্যা করব। যদি আমরা বেঁচে যাই, তো ভালো, নইলে দুনিয়াতে আমাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ হবে।  অন্য বর্ণনায় এসেছে, অন্যথায় শাহাদাত লাভ হবে। সে বলল, ইসলামে তাঁর অগ্রগামিতা ও উচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁকে হত্যা করতে আমার মন সায় দিচ্ছে না। জবাবে ইবনে মুলজাম বলল, ‘তিনি কি নাহরাওয়ানের যুদ্ধে সৎ লোকদের হত্যা করেননি?’ তাদের রক্তের বদলায় আমি তাকে হত্যা করব। অতঃপর সে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, মসজিদে আত্মগোপন করল এবং দরজার পাশে ওত পেতে থাকে। ফজরের আজান হলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে লোকদের ‘আস-সালাত’ ‘আস-সালাত’ বলে সালাতের আহ্বান জানাতে থাকেন। এ অবস্থায় শাবিব তরবারি নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তিনি দরজার কাছে পড়ে গেলে ইবনে মুলজাম তাঁর কানের উপরিভাগে মাথার শিংয়ের কাছে তরবারির আঘাত করে বলতে লাগল, ‘হে আলী, রাজত্ব আল্লাহর জন্য, তোমার জন্য নয় বা তোমার সাথীদের জন্যও নয়।’

(মুসনাদ  আহমাদ, হাদিস : ১৮৩৪৭)

এই আঘাতের জের ধরে তিন দিন জীবিত থাকার পর ৪০ হিজরি ২১ রমজান রাতে ৬৩ বছর বয়সে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। (তারিখে ইবনে খালদুন : ২/৬৪৫-২৪৬; আল-বিদায়া ৭/৩২৫-৩২৯)

মন্তব্য