kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ইংরেজি শিক্ষা আইন ও ভারতীয় মুসলিম সমাজ

শেখ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৭ মার্চ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিং ইংরেজি শিক্ষা আইন ১৮৩৫ অনুমোদন করেন। এই আইনে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষাকে আবশ্যক করা হয়। ফলে ফারসিসহ ভারতীয় ভাষাগুলোতে উচ্চশিক্ষা পাঠদানের সুযোগ সীমিত হয়। একই সময়ে ফারসির পরিবর্তে ইংরেজিকে প্রশাসন ও আদালতের ভাষা করা হয়। এ আইন প্রবর্তনের কারণে ভারতীয় মুসলিমরা সীমাহীন বিড়ম্বনার শিকার হয়। কেননা মোগল আমল থেকে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যম এবং প্রশাসন ও আদালতের ভাষা ছিল ফারসি। ইংরেজি রাষ্ট্রীয় ভাষা হওয়ায় ব্রিটিশ প্রশাসন ও আদালতে যে সামান্যসংখ্যক মুসলিম কর্মরত ছিল, তারাও বিপাকে পড়ে গেল। অনেকে চাকরিচ্যুত হলো। ইংরেজি শিক্ষা আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার, ভারতে ব্রিটিশ শাসকদের সহযোগী তৈরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং ভারতীয়দের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন।

ইংরেজি শিক্ষা আইন ভারতীয় মুসলিম সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল, তার বহু চিত্র ইংরেজ ইতিহাসবিদদের বইয়ে পাওয়া যায়। ডাব্লিউ ডাব্লিউ হান্টার লেখেন, ‘এক শ বছর আগে রাষ্ট্রীয় চাকরির সব পদে মুসলমানদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। শাসকশক্তি কদাচিৎ কখনো অনুগ্রহ বিতরণ করলে হিন্দুরা তাই গ্রহণ করে কৃতার্থ হতো এবং সামান্য দু-একটা জায়গায় কিংবা দু-চারটে কেরানি পদে ইউরোপিয়ানদের মুখ দেখা যেত। কিন্তু ওপরের হিসাবে দেখানো হয়েছে যে, পরবর্তী সময়ে হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানদের আনুপাতিক হার দাঁড়িয়েছে এক-সপ্তাংশেরও কম। ইউরোপীয়দের তুলনায় হিন্দুদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অর্ধেকেরও বেশি। ইউরোপীয়দের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক-পঞ্চমাংশের কম। এক শতাব্দী আগে সরকারি প্রশাসনে যে জাতির একচেটিয়া অধিকার কায়েম ছিল, বর্তমানে তাদের আনুপাতিক হার মোট সংখ্যার ২৩ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এটাও আবার শুধু গেজেটেড চাকরির বেলায় প্রযোজ্য, যেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বণ্টনের সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। (দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস, পৃষ্ঠা ১৪৯)

মূলত এ আইনের ফলে ভারতীয় মুসলিমরা প্রশাসন, আদালত ও শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হারায় এবং তাদের দুর্গতি ও দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।

মন্তব্য