kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

ফেরাউনের ঔদ্ধত্যমূলক প্রশ্ন

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিনের দাওয়াত পেয়ে ফেরাউন প্রশ্ন করল—

৪৯. সে (ফেরাউন) বলল, হে মুসা, তোমার রব কে?’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৯)

 

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মুসা ও হারুন (আ.) দ্বিনের দাওয়াত নিয়ে ফেরাউনের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেদের আল্লাহর রাসুল বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এ কথা ফেরাউনকে ভাবিয়ে তোলে। কেননা এত দিন সে জানত, সে নিজেই ‘খোদা’। সে সময়ে মিসরের লোকেরাও তাকে এভাবে সম্বোধন করত। তাই সে পাল্টা প্রশ্ন করল, তোমার রব কে—হে মুসা, আলোচ্য আয়াতে ফেরাউনের এই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেরাউনের এ প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল, তোমরা দুজন আবার কাকে রব বানিয়ে নিয়েছ, মিসর ও মিসরবাসীদের রব তো আমিই। অন্যত্র এসেছে, সে বলেছিল, ‘আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।’ (সুরা নাজিআত, আয়াত : ২৪)

তাই ফেরাউন আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করল। সে মুসা ও হারুন (আ.)-এর কথা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উপস্থিত পারিষদবর্গকে জিজ্ঞাসা করল—‘হে আমার জাতি, মিসরের রাজ্য কি আমার নয়? আর এ নদীগুলো কি আমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে না? তোমরা কি দেখো না?’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৫১)

‘হে মুসা, তোমার রব কে’—ফেরাউনের এই প্রশ্ন জানার জন্য নয়; এটি অহংকার ও ঔদ্ধত্যমূলক আচরণের অংশ। ফেরাউন কত ঔদ্ধত্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যে সে প্রাসাদ তৈরি করে আল্লাহকে দেখতে চায়। সে তার এক উজিরকে বলল, ‘হে হামান, তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি করো। হয়তো আমি এতে ওঠে মুসার ইলাহকে দেখতে পারব। আর আমি অবশ্যই মনে করি সে মিথ্যাবাদী।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৩৮)

মূল কথা হলো, হিদায়াতের বাণী আসা সত্ত্বেও ফেরাউন নিজের খোদায়িত্বের দাবিতে অনঢ় ছিল। তাই সে মুসা (আ.)-কে ধমক দিয়ে বলল, ‘যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো, আমি তোমাকে কয়েদিদের অন্তর্ভুক্ত করব।’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ২৯)

আসলে সে এ কথা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না যে অন্য কোনো সত্তা তার ওপর কর্তৃত্ব করবে।

একদল তাফসিরবিদের মতে, ফেরাউন সর্বেশ্বরবাদী লোক ছিল। সে মনে করত, তার মধ্যে ‘ইলাহ’ ভর করে। আত্মগর্ব, অহংকার ও ঔদ্ধত্যের কারণে প্রকাশ্যে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করত এবং নিজে উপাস্য হওয়ার দাবি করত। (ইবন তাইমিয়া, ইকতিদায়ুস সিরাতিল মুস্তাকিম : ২/৩৯১)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

 

মন্তব্য