kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

ওহির শিক্ষাবিমুখ হওয়ার পরিণতি

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফেরাউনের প্রতি মুসা ও হারুন (আ.)-এর দাওয়াতের একটি অংশ এমন ছিল : ‘আমাদের [মুসা ও হারুন (আ.)] প্রতি ওহি পাঠানো হয়েছে যে আজাব শুধু তার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৮)

 

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁরা তার কাছে গিয়ে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা আল্লাহর রাসুল, আমাদের সঙ্গে বনি ইসরাঈলদের যেতে দিন—তাদের শাস্তি দেবেন না ইত্যাদি। আলোচ্য আয়াতে ফেরাউনের প্রতি মুসা ও হারুন (আ.)-এর দাওয়াতের অংশবিশেষ বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মুসা ও হারুন (আ.) ফেরাউনের কাছে এ কথা বলার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন যে আমাদের কাছে ওহি আসে। বিশেষত এ বিষয়ে ওহি আসে যে মিথ্যাবাদী ও ওহির শিক্ষাবিমুখদের পরিণতি ভয়াবহ। তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। মানুষকে আল্লাহমুখী করার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল ও বহু কুদরতি নিদর্শন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করে অবিশ্বাসীরা উদাসীনতায় বিভোর হয়ে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘...অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকে আমার (আল্লাহর) নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৯২)। অবিশ্বাসীরা দ্বিনের কথা এবং ওহির কথা থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে কখনো তা শোনেনি। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যখন তার কাছে আমার আয়াত আবৃত্তি করা হয়, তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতে পায়নি। যেন তার দুই কান বধির। সুতরাং তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৭)। সুরা ত্বহার আলোচ্য আয়াতে এই গাফিলতি ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিণতি হিসেবে ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এই শাস্তি ফেরাউন দুনিয়ায়ই প্রত্যক্ষ করেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং আমি তাদের (ফেরাউন ও পারিষদবর্গ) শাস্তি দিয়েছি। তাদের অতল সাগরে নিমজ্জিত করেছি। কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করত এবং এ বিষয়ে তারা ছিল গাফিল।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৩৬)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

মন্তব্য