kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

ফেরাউনের সঙ্গে মুসা (আ.)-এর শুভেচ্ছা বিনিময়

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরাউনের সঙ্গে মুসা (আ.)-এর শুভেচ্ছা বিনিময়

মহান আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন,

৪৭. ‘সুতরাং তোমরা তার (ফেরাউন) কাছে যাও এবং বলো, আমরা তোমার রবের রাসুল। সুতরাং আমাদের সঙ্গে বনি ইসরাঈলকে যেতে দাও। তাদের কষ্ট দিয়ো না। আমরা তোমার রবের কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। শান্তি তাদের প্রতি, যারা অনুসরণ করে সৎপথ।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৭)

 

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, ফেরাউনের কাছে দ্বিন প্রচারের ক্ষেত্রে শঙ্কিত ছিলেন মুসা ও হারুন (আ.)। মহান আল্লাহ তাঁদের অভয় দিয়েছেন। আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে দ্বিন প্রচারের ভাষা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এ আয়াতে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এক. মুসা (আ.) আল্লাহর রাসুল—এই কথা স্পষ্টভাবে বলতে বলা হয়েছে। দুই. বন্দি বনি ইসরাঈলকে মুসা (আ.)-এর সঙ্গে যেতে দেওয়ার দাবি জানাতে বলা হয়েছে। তিন. নবী হওয়ার নিদর্শন ও মুজেজা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চার. কথাচ্ছলে ‘ফেরাউনের রবও আল্লাহ’—এই কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাঁচ. অমুসলিমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।

এ আয়াতে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে শিখিয়েছেন যে ফেরাউনকে ‘সালাম’ দেবে। কিন্তু সেটি মুসলমানদের স্বাভাবিক সালাম নয়; বরং অমুসলিমদের সালাম দেওয়ার পদ্ধতি।

এ সালাম অভিবাদনের জন্য নয়; বরং শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি আমন্ত্রণ। যেমন—মহানবী (সা.) রোমসম্রাট হিরাকলকে পত্রে লিখেছিলেন, ‘ইসলাম গ্রহণ করে নাও, শান্তিতে বসবাস করবে।’

তিনি পত্রের শুরুতে ‘ওয়াস সালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা—শান্তি তাদের প্রতি, যারা সৎপথের অনুসরণ করে’ এ কথাগুলো লিখতেন। (ইবনে কাসির)

অমুসলিমকে ‘সালাম’ দেওয়া বৈধ নয়। কোনো প্রয়োজনে দিতে হলে ‘আসসালামু আল মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে। আর অমুসলিমরা সালাম দিলে জবাবে শুধু ‘ওয়া আলাইকুম’ বলবে। তবে অমুসলিমদের সঙ্গে যাবতীয় লেনদেন, সদাচরণ ও সাধারণ সম্পর্ক রাখা বৈধ। (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৫১, সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১১৮, আল বাহরুর রায়েক : ৮/৩৭৪, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৯/৫৪৫, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১২/১০৩)

অমুসলিম তো আল্লাহর ওপর সঠিক বিশ্বাস রাখে না। তাই তার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা অর্থহীন ও বোকামি। তবে শিষ্টাচারমূলক সম্ভাষণ করা যাবে। কোনো অমুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে সৌজন্য প্রদর্শনস্বরূপ ‘আদাব, গুড মর্নিং, গুড ইভিনিং অথবা এই জাতীয় যেকোনো শব্দ বলা যাবে। (কিতাবুল ফাতাওয়া)

     গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ।

 

মন্তব্য