kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ইসলামের ইতিহাসে ৩ মার্চ

উসমানীয় খিলাফতের শেষ দিন

আবরার আবদুল্লাহ   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উসমানীয় খিলাফতের শেষ দিন

৩ মার্চ ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আইন পাসের মাধ্যমে উসমানীয় খিলাফতের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে উসমানীয় রাজবংশের প্রায় সাত শ বছরের শাসনের অবসান হয় এবং ইসলাম আগমনের প্রথমবারের মতো ‘ইসলামী খিলাফত’ ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকতা হারায়।

সেলজুক রাজবংশের জামাতা আর্তুগুল গাজি প্রথমে রোমের সেলজুক সালতানাতের নিযুক্ত একজন আঞ্চলিক শাসক ছিলেন। তাঁকেই উসমানীয় খিলাফতের স্বপ্নদ্রষ্টা মনে করা হয়। তাঁর ছেলে প্রথম উসমানের নামানুসারে খিলাফতের নামকরণ করা হয়। ১৫২৬ সালে হাঙ্গেরি জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল উসমানীয় খিলাফতের অধীন হয়। ১৬০০ ও ১৭০০ শতাব্দী ছিল উসমানীয় খিলাফতের উত্থানকাল। বিশেষত সুলতান প্রথম সুলাইমানের সময় উসমানীয় খিলাফত দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, উত্তরে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকাজুড়ে, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলসহ বিস্তৃত একটি শক্তিশালী বহুজাতিক ও বহুভাষিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এ সময় উসমানীয় খিলাফত ৩৬টি প্রদেশ ও বেশ কিছু অনুগত রাজ্যে বিভক্ত ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্তি হলে খিলাফতের অধীন বলকান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক অংশগুলো ৪৯টি স্বাধীন রাষ্ট্রে আত্মপ্রকাশ করে।

দ্বিতীয় মুরাদের ছেলে দ্বিতীয় মুহাম্মদ রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন করেন। ১৪৫৩ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় মুহাম্মদ কনস্টান্টিনোপল জয় করেন। ১৫০০ ও ১৬০০ শতাব্দীতে উসমানীয় সাম্রাজ্য বিস্তৃতির যুগে প্রবেশ করে। প্রথম সুলাইমানের শাসনের সমাপ্ত হওয়ার সময় তিন মহাদেশব্যপী সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। ১৭১৬-১৭১৮ সালের অস্ট্রো-তুর্কি যুদ্ধের পর পাসারোউইতজের চুক্তি অনুযায়ী বানাত, সার্বিয়া ও অল্টেনিয়া অস্ট্রিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে হয়। এই চুক্তির পর ইউরোপে উসমানীয়দের জয়যাত্রা থেমে যায়। সময়ের প্রয়োজনে উসমানীয়রা রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থায় উন্নয়নে প্রয়াসী হয়।

১৯০৮ সালে তরুণ তুর্কি বিপ্লবের পর দ্বিতীয় সাংবিধানিক যুগ শুরু হয়। গৃহবিবাদের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ১৯০৮ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা দখল করে নেয়। ১৯১৪ সাল নাগাদ উসমানীয় খিলাফত ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় তার বেশির ভাগ অঞ্চল হারিয়ে ফেলে। ১৯১৬ সালে আরব বিদ্রোহ শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্য রণাঙ্গনে উসমানীয়দের স্রোতকে উল্টে দেয়।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালের ১ নভেম্বর সালতানাত বিলুপ্ত করা হয় এবং শেষ সুলতান ষষ্ঠ মুহাম্মদ ১৭ নভেম্বর দেশ ছেড়ে চলে যান। সালতানাত বিলুপ্ত হলেও এ সময় খিলাফত বিলুপ্ত করা হয়নি। ষষ্ঠ মুহাম্মদের স্থলে দ্বিতীয় আবদুল মজিদ খলিফার পদে বসেন। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে। ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ খিলাফত বিলুপ্ত করা হলে সর্বশেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ দেশত্যাগ করেন।

 

মন্তব্য