kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

প্রশ্ন-উত্তর

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নামাজ চলাকালে গন্ধ বা আওয়াজ পেলে

প্রশ্ন : আমি নামাজ চলাকালে বিভিন্ন গন্ধ পাই, অনেক সময় বিভিন্ন শব্দ শুনতে পাই। শুনেছি, হাদিসে আছে তোমরা নামাজে থাকা অবস্থায় যদি এ রকম গন্ধ পাও বা কিছু শুনতে পাও, তাহলে নামাজ ছেড়ে চলে যাও। এটা ঠিক? এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

মো. আজাদ রহমান, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : আপনার বিভিন্ন গ্রন্থ পাওয়া বা শব্দ শোনা কোনো অসুস্থতার দরুন হতে পারে। আপনি কোনো ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন। আর প্রশ্নোক্ত হাদিসটির মর্ম বুঝতে আপনি ভুল করেছেন। হাদিসটির সঠিক মর্ম হলো, কারো নামাজে বায়ু বের হয়ে অজু ভেঙে যাওয়ার ওয়াসওয়াসা হলে নামাজ ছাড়বে না, যতক্ষণ না গন্ধ পাবে বা আওয়াজ শুনতে পাবে, অর্থাৎ বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য, অভিজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধান ছাড়া শুধু হাদিসের অনুবাদ পড়ার দ্বারা এ জাতীয় ভুলে পতিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাই অভিজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধানে হাদিসের কিতাব পড়া আবশ্যক।

(তিরমিজি, হাদিস : ৭৫, মুসলিম, হাদিস : ৩৬২, বুখারি, হাদিস : ১৩৭)

 

স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত ঘড়ি ব্যবহারের বিধান

প্রশ্ন : আমার এক আত্মীয় আমাকে একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছে। শুনেছি এর মধ্যে স্বর্ণের প্রলেপ আছে। যদি তা সত্য হয়, তাহলে কি আমার জন্য এই ঘড়ি ব্যবহার করা জায়েজ হবে? এমনকি সোনালি রঙের ঘড়ি পরা যাবে?

ইমাম হোসেন রাসেল, নোয়াখালী।

উত্তর : পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম। সেটা ঘড়ির মধ্যে হোক বা অন্য পন্থায়। তবে সোনালি রঙের বস্তু ব্যবহার করা হারাম নয়। সুতরাং আপনার ঘড়িতে স্বর্ণের প্রলেপ থাকা নিশ্চিত হলে তা ব্যবহার করা আপনার জন্য জায়েজ হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৫৮, রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৫৫, এমদাদুল মুফতিন : ৮১৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৫১৬)

 

দরুদ পাঠের পদ্ধতি

প্রশ্ন :  কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সঠিক পদ্ধতি কী?

মুহাম্মদ ইউনুস, পটিয়া। 

উত্তর : রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে যেসব দরুদ শিক্ষা দিয়েছেন সেখানে বিশেষ কোনো নিয়ম বা পদ্ধতি উল্লেখ নেই। আর যেসব দরুদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের অনুসারীরা পাঠ করে আসছেন সেগুলোতেও কোনো নিয়মের বাধ্যবাধকতা নেই। তাই আদবের সঙ্গে পবিত্র স্থানে যেকোনো দরুদ যত বেশি পাঠ করতে পারে তত বেশি লাভবান হবেন। (আহসানুল ফাতাওয়া : ১/৩৬৩, তাফসিরে কুরতুবি : ১৪/২৩৩).

 

ইসালে সওয়াবের খাবার ধনীরা খেতে পারবে?

প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সওয়াব ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যে খাবার তৈরি করা হয় তা ধনীদের ভক্ষণ করা বৈধ কি?

মুহাম্মদ তুরাব আলী, শ্রী নগর, মুন্সীগঞ্জ। 

উত্তর : আমাদের সমাজে তিন দিনা, দশ দিনা, বিশ দিনা, চল্লিশা, ছয়মাসি, বার্ষিকীতে যে খানার আয়োজন করা হয় তা রসম-রেওয়াজ ও সামাজিক প্রথা হিসেবে করা হয়। এটা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। যদি আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে বিশুদ্ধভাবে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে হয় তাহলে সে খাবার ফকির-মিসকিন ও গরিবদের হক। আত্মীয়স্বজন ও ধনীরা এর হকদার নয়, তাদের অংশগ্রহণ করা মাকরুহ। (কেফায়াতুল মুফতি : ৪/১৩০)

 

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

 

মন্তব্য