kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

কথা বলার শিষ্টাচার

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তার (ফেরাউন) সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৪)

 

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ হিদায়াতের বাণী নিয়ে মুসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আলোচ্য আয়াতে ফেরাউনের সঙ্গে কথা বলার পদ্ধতি ও শিষ্টাচার শেখানো হয়েছে। খোদাদ্রোহী ফেরাউনের সঙ্গে বিনম্রভাবে কথা বলতে বলা হয়েছে।

সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষেরই শুধু বাকশক্তি রয়েছে। মনের ভেতরের ঘূর্ণায়মান কল্পনা-অনুভূতিকে বাকযন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজেই মানুষ অন্যের কাছে প্রকাশ করে। মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা অহেতুক কথা থেকে বিরত থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনরা, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী, যারা অসার ক্রিয়াকলাপ বা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-৩)। উত্তম কথায় মানবমর্যাদা উন্নত হয়। ব্যক্তিত্বের স্তরও নির্ধারিত হয় এ কথার মাধ্যমে। কখনো কখনো এ কথাই বহু বিপদ টেনে আনে। তাই ইসলামে বাকসংযমের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা সংরক্ষণের জন্য তার কাছেই (অদৃশ্য) তৎপর প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কফ, আয়াত : ১৮)

জীবন চলার পথে কখনো কখনো যুক্তিতর্ক ও বিবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সে ক্ষেত্রেও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা উত্তম পন্থায় আহলে কিতাবের সঙ্গে তর্ক করবে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৪৬)

কাউকে কটাক্ষ করা, উপহাস করা, কারো দিকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা এবং মন্দ বিশেষণে কাউকে ভূষিত করা ইসলামে খুবই গর্হিত অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ কোরো না এবং একে কাউকে মন্দ নামে ডেকো না; ইমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা অতি নিন্দনীয়।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)। কথা বলার সময় কখনো শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। গালাগাল করা, দম্ভভরে কথা বলা ও কর্কষ ভাষা ব্যবহার করা গর্হিত অপরাধ। লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রের প্রতি এই মর্মে উপদেশ দেন, ‘সংযতভাবে তুমি তোমার পা পরিচালনা করবে আর তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখবে। নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সব চেয়ে অপ্রীতিকর।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৯)    গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

মন্তব্য