kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ইসলামী পরিভাষা-১০

‘আলাইহিস সালাম’ এর ব্যবহারবিধি

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আলাইহিস সালাম’ এর ব্যবহারবিধি

‘আলাইহিস সালাম’ শ্রদ্ধা ও আশীর্বাদ বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত আরবি পরিভাষা। এর অর্থ তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্য নবী ও রাসুলদের নাম উচ্চারণের পর তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। যেমন—আদম আলাইহিস সালাম। তবে লেখার ক্ষেত্রে সংক্ষেপে আ./(আ.)ও আঃ ব্যবহার করা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা সফফাতসহ কয়েকটি সুরায় মহান আল্লাহ নবীদের নামের সঙ্গে এই ‘সালাম’ যুক্ত করেছেন।

পাশাপাশি এই পরিভাষা ফেরেশতাদের নামের সঙ্গেও ব্যবহার বা পাঠ করা হয়। যেমন—জিবরাঈল (আ.) ও আজরাইল (আ.)।

শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁদের ইমাম ও আহলে বাইতের সদস্যদের নামের সঙ্গেও এ পরিভাষা উচ্চারণ করেন। যেমন—আলী আলাইহিস সালাম।

তবে মহানবী (সা.)-এর নামের সঙ্গে শুধু ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার হয় না। কেননা মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম উভয়ই প্রেরণ করতে হবে। ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, রাসুল (সা.)-এর ওপর যখন কেউ দরুদ পাঠ করে, তখন তার সালামও পাঠ করা উচিত। শুধু দরুদ বা সালাম পেশ করে ক্ষান্ত হওয়া উচিত নয়। ফলে ‘আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম’ (তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম) বা ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলতে হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘...হে মুমিনরা! তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠাও ও সালাম পাঠাও।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্য নবী-রাসুল ও ফেরেশতাদের ওপর সালাম পেশ করা মুস্তাহাব। আলেমদের ঐকমত্যে অন্য নবীদের প্রতি দরুদও পাঠ করা যাবে। এ ছাড়া কোনো ওলি বা বুজুর্গ ব্যক্তির জন্য ‘আলাইহিস সালাম’ পরিভাষা ব্যবহার করার অনুমতি নেই। যদিও শাব্দিক অর্থ মোতাবেক যেকোনো ব্যক্তির জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া করা হয়। তথাপি পরিভাষার ব্যবহারবিধি অনুসরণ করা উচিত। এমনকি আলী (রা.)-এর জন্যও ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা অনুচিত। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৫১৭/৩)

গ্রন্থনা : তাজুল ইসলাম

 

মন্তব্য