kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

নবী-জীবনী

নবী হওয়ার আগেই যাঁরা নবীজিকে চিনেছেন

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবী হওয়ার আগেই যাঁরা নবীজিকে চিনেছেন

সৃষ্টির সূচনালগ্নে আল্লাহ নবী-রাসুলদের মহানবী (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তাঁদের থেকে তাঁর আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন। ফলে পূর্ববর্তী নবী-রাসুলরা তাঁদের উম্মতকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে অবগত করেছিলেন। নবীজিকে চেনার বিভিন্ন নিদর্শন ও আলামত বর্ণনা করেছিলেন। সেসব নিদর্শনের ভিত্তিতে একাধিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নবুয়তের আগেই নবীজি (সা.)-কে যুগের নবী হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চিহ্নিতকরণের ঘটনা ঘটেছে।

ইহুদি পণ্ডিত : ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যে রাতে জন্মগ্রহণ করেন সে রাতে একজন ইহুদি পণ্ডিত মক্কায় অবস্থান করছিলেন। যিনি স্থানীয়দের বলেছিলেন, খোঁজ নিয়ে দেখো আজ কোনো ছেলেশিশুর জন্ম হয়েছে কি না? কেননা আজ রাতে যুগের নবীর জন্ম হয়েছে, যার শরীরে নবুয়তের মহর রয়েছে। যখন সে নবীজির জন্মের বিষয়ে নিশ্চিন্ত হলো তখন হুঁশ হারিয়ে ফেলল। হুঁশ ফেরার পর বলল, আজ বনি ইসরাঈলের নবুয়তের ধারা শেষ হলো। (সিরাতে মোস্তফা : ১/৫৫)। হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের দিন সকালে মদিনার এক ইহুদি চিত্কার করে বলেছিলেন, হে ইহুদি সমাজ! আজ রাতে আহমদের জন্মের সেই নক্ষত্র উদিত হয়েছে। (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ৩৮)

আরব গণক : চার বা পাঁচ বছর বয়সে দুধমা হালিমার বাড়িতে অবস্থানকালে মহানবী (সা.)-এর বক্ষবিদারণের ঘটনা ঘটে। তখন হালিমা বিষয়টি জানতে সাদিয়া (রা.) নামে একজন গণকের কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘হে আরবের জনগণ! তাড়াতাড়ি এসো। যে মহাবিপদ অচিরেই তোমাদের ওপর ঘনায়মান তাকে প্রতিহত করো। যার উপায় এই যে তোমরা এই শিশুটিকে হত্যা করো এবং আমাকেও তার সঙ্গে হত্যা করো। যদি তোমরা তাকে জীবিত ছেড়ে দাও, তাহলে স্মরণ রেখো সে তোমাদের ধর্মকে মিটিয়ে দেবে এবং নতুন একটি দ্বিনের দিকে তোমাদেরকে আহ্বান করবে, যার কথা তোমরা আজ পর্যন্ত কখনো শোনোনি।’ (সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা ৮)

পাদরি বুহাইরা : ১২ বছর বয়সে মহানবী (সা.) চাচা আবু তালিবের সঙ্গে প্রথমবার সিরিয়া সফরে যান। মক্কার ব্যবসায়ী কাফেলা বুসরা নামক স্থানে পৌঁছালে বুহাইরা নামক একজন খ্রিস্টান পাদরি মহানবী (সা.)-কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত ধরে বলেন, ‘ইনি সাইয়েদুল আলামিন (জগত্গুলোর নেতা)। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত বা অনুগ্রহ হিসেবে প্রেরণ করেছেন।’ বুহাইরা আবু তালিবকে পরামর্শ দেন যেন তাঁকে সিরিয়া নিয়ে না যান। কেননা তাতে ইহুদিরা মুহাম্মদ (সা.)-এর ক্ষতি করতে পারে। বুহাইরার পরামর্শ অনুযায়ী আবু তালিব তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠান। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৭৫)

পাদরি নাসতুরা : ২৫ বছর বয়সে মহানবী (সা.) খাদিজা (রা.)-এর বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে সিরিয়া সফর করেন। পথিমধ্যে মহানবী (সা.) একটি গাছের নিচে বিশ্রাম করছিলেন। তখন নাসতুরা নামক এক পাদরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখে বলেন, এ গাছের নিচে কেবল নবীরাই বিশ্রাম করে। এই ব্যক্তি প্রতীক্ষিত নবী, তিনিই সর্বশেষ নবী। (সিরাতে মোস্তফা : ১/৯৭)

ওরাকা ইবনে নওফল : খাদিজা (রা.)-এর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফল ছিলেন জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি। আসমানি ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে বিশেষ জানাশোনা ছিল তাঁর। বিয়ের ব্যাপারে খাদিজা (রা.) তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং বাণিজ্যিক সফরে পাদরি নাসতুরার কথা জানান। তখন তিনিও মহানবী (সা.)-এর ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি বলেন, ‘খাদিজা! এ ঘটনা যদি সত্যই ঘটে থাকে তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে মুহাম্মদ এ যুগের নবী।’ অতঃপর তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর অনাগত দিনের বিবরণ দিয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও রচনা করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ৪৭)

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু

 

মন্তব্য