kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

মুসা (আ.)-এর জীবনে মহাপরীক্ষা

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘(হে মুসা) যখন তোমার বোন এসে বলল, আমি কি তোমাদের বলে দেব, কে এই শিশুর দায়িত্ব নেবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া থেকে মুক্তি দিই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীর মধ্যে ছিলে। হে মুসা, এরপর তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছ।’ [সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪০ (দ্বিতীয়াংশ)]

তাফসির : মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.)-এর মা ফেরাউনের কবল থেকে সন্তানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সিন্দুকে ঢুকিয়ে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। নদীর ঢেউ তাঁকে ধীরে ধীরে তাঁর শত্রু ফেরাউনের কাছে নিয়ে যায়। মুসা (আ.)-এর মা কফিনটি নদীতে ফেলে মেয়েকে বলেন, একটু লক্ষ্য রেখো, কোথায়, কোন তীরে গিয়ে পৌঁছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মুসা (আ.)-কে বহনকারী সিন্দুক ফেরাউনের ঘাটে চলে যায়। এভাবেই শত্রুর হাতে লালিত-পালিত হয়েছেন মুসা (সা.)। এসব কথা বর্ণনার পাশাপাশি এই আয়াতে মুসা (আ.)-এর জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা না করে এখানে শুধু এ কথা বলা হয়েছে যে ‘আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি।’

উদাহরণস্বরূপ—ফেরাউন এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে এক বছর বনি ইসরাঈলের ছেলে শিশুদের বাঁচিয়ে রাখা হবে, আর অন্য বছরের শিশুদের হত্যা করা হবে। আল্লাহর হুকুমে মুসা (আ.) ওই বছর জন্মগ্রহণ করেন, যে বছর হত্যা করার কথা ছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ অলৌকিকভাবে মুসা (আ.)-কে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর মা তাঁকে সাগরের ঢেউয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন মহান আল্লাহ। আবার ফেরাউনের দরবারে দুধদানকারিণী নারীদের দুধ মুসা (আ.) মুখে নেননি। পরে তিনি তাঁর নিজ মায়ের দুধ খেয়েছেন। এটাও সম্ভব হয়েছে আল্লাহর মেহেরবানিতে। মুসা (আ.) একদিন ফিরাউনের দাড়ি ধরে টান দিয়েছিলেন, এর ফলে সে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই পরীক্ষায়ও মহান আল্লাহ তাঁকে উত্তীর্ণ করেছেন।

মুসা (আ.)-এর হাতে একজন কিবতি ভুলবশত খুন হয়ে গিয়েছিল। এই বিপদ থেকেও তিনি উদ্ধার করেছেন। সব পরীক্ষায় মহান আল্লাহ তাঁকে সাহায্য ও উত্তীর্ণ করেছেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

 

মন্তব্য