kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

শত্রুর ঘরে বেড়ে ওঠেন মুসা (আ.)

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘(হে মুসা) যখন তোমার বোন এসে বলল, আমি কি তোমাদের বলে দেব, কে এই শিশুর দায়িত্ব নেবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া থেকে মুক্তি দিই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীর মধ্যে ছিলে। হে মুসা, এরপর তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছ।’ [সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪০ (প্রথমাংশ)]

 

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.)-এর মা ফেরাউনের কবল থেকে সন্তানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সিন্দুকে ঢুকিয়ে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। নদীর ঢেউ তাঁকে ধীরে ধীরে তাঁর শত্রু ফেরাউনের কাছে নিয়ে যায়। আলোচ্য আয়াতে এর পরের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। মুসা (আ.)-এর মা কফিনটি নদীতে ফেলে মেয়েকে বলেন, একটু লক্ষ্য রেখো, কোথায়, কোন তীরে গিয়ে পৌঁছে। আল্লাহর ইচ্ছায় মুসা (আ.)-কে বহনকারী সিন্দুক ফেরাউনের ঘাটে চলে যায়। ফেরাউনের সন্তান ছিল না। তাঁর স্ত্রী এই ফুটফুটে বাচ্চা দেখে তাঁকে লালন-পালনের চিন্তা করেন। এভাবেই ফেরাউনের মহলে পৌঁছে গেলেন মুসা (আ.)। তখন তিনি ছিলেন সবেমাত্র দুধ খাওয়ার শিশু। সঙ্গে স্তন্যদাত্রী নারী ও আয়াদের ডাকা হলো; কিন্তু মুসা (আ.) কারো স্তনবৃন্ত মুখে নিলেন না। এদিকে তাঁর বোন সব লক্ষ্য করছিলেন। পরিশেষে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন এক নারীর কথা বলব, যে তোমাদের এই সমস্যা দূর করে দেবে?’ তারা বলল, ‘বলো কে? নিয়ে এসো তাকে।’ তত্ক্ষণাৎ তিনি আপন মাকে (যিনি মুসা (আ.)-এরও মা) ডেকে নিয়ে এলেন। যখন মা সন্তানকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিলেন, তখন মুসা (আ.) আল্লাহর ইচ্ছায় দুধ পান করতে শুরু করেন।

আল্লাহর কুদরত বড় বিস্ময়কর! যে শিশুর জন্য ফেরাউন অসংখ্য শিশু-সন্তান হত্যা করিয়েছিল, যাতে সে জীবিত না থাকে, সেই শিশুকে ফেরাউনের কোলে লালন-পালন করালেন! আল্লাহর ক্ষমতা কত প্রবল!

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

 

মন্তব্য