kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

ধারাবাহিক তাফসির

মুসা (আ.)-এর অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর উদ্দেশে বলেন, ‘আর আমি তো তোমার প্রতি আরো একবার অনুগ্রহ করেছিলাম, যখন আমি তোমার মাকে যা জানানোর তা জানিয়েছিলাম। এই মর্মে (জানিয়েছিলাম) যে তুমি তাকে [মুসা (আ.)] সিন্দুকের মধ্যে রাখো অতঃপর নদীতে (নীল নদে) ভাসিয়ে দাও, যাতে নদী তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু (ফেরাউন নদী থেকে তুলে) নিয়ে যাবে। আমি আমার কাছ থেকে তোমার [মুসা (আ.)] প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিলাম, যাতে তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৩৭-৩৯)

 

তাফসির : আগের আয়াতে মুসা (আ.)-এর পাঁচটি দোয়া কবুল হওয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর প্রতি আরো একবার বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। অনুগ্রহ করে অলৌকিকভাবে মুসা (আ.)-কে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

এখানে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যা শৈশবে তাঁর সঙ্গে ঘটেছিল। ফেরাউন এই মর্মে রাজকীয় ফরমান জারি করেছিল যে বনি ইসরাঈলের যেকোনো ছেলেসন্তানকে হত্যা করা হবে। মুসা (আ.) ছিলেন বনি ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত। তাই তাঁর মা হত্যার ভয়ে আল্লাহর আদেশে তাঁকে তাঁর দুধপানের বয়সে একটি কাঠের কফিনে রেখে নীল নদে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর মা এই কাজটি করেছিলেন আল্লাহর হুকুমে। এই কথাটি বোঝানোর জন্য কোরআনে ওহি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বাহ্যিক অর্থ এমন হয় যে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর মায়ের কাছে ওহি পাঠিয়েছেন।

তাফসিরবিদরা এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এখানে ওহি মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় জানানো। হয়তো মহান আল্লাহ তাঁর মাকে এই কাজ করার জন্য স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন। অথবা ফেরেশতার মাধ্যমেও জানিয়ে থাকতে পারেন।

আয়াতে এক আদেশে মুসা (আ.)-এর মাকে বলা হয়েছে, এই শিশুকে সিন্দুকে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দাও। দ্বিতীয় আদেশ নদীকে দেওয়া হয়েছে যে সে যেন এই সিন্দুককে তীরে নিক্ষেপ করে দেয়। অতঃপর এই সিন্দুক ও শিশুকে নদীর তীর থেকে এমন ব্যক্তি কুড়িয়ে নেবে, যে আল্লাহ ও মুসা (আ.)-এর শত্রু। সে হলো ফেরাউন।

আল্লাহর হিকমত বোঝা বড় দায়! যার ভয়ে মুসা (আ.)-কে নদীতে নিক্ষেপ করা হলো, মহান আল্লাহ তার ঘরেই মুসা (আ.)-কে লালন-পালন করেছেন। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল, তিনি শত্রুর ঘরে তাঁর বন্ধু মুসা (আ.)-কে রাজকীয়ভাবে প্রতিপালিত করবেন। তাঁর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। তাই মিসরের সর্ববৃহৎ বাদশাহ ফেরাউনের গৃহে তাঁকে লালিত-পালিত করেছেন। সে জানত না নিজের হাতে নিজেরই দুশমনকে লালন-পালন করছে! কার্যত এসব হয়েছে আল্লাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ।

মন্তব্য