kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

নবী-জীবনী

সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুবক মুহাম্মদ (সা.)

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহানবী (সা.) ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে উপনীত হলে কোরাইশ ও হাওয়াজিন গোত্রের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর এই যুদ্ধে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। নিষিদ্ধ মাস ও বায়তুল্লাহর পবিত্র হেরেম উভয়ের বিধি-নিষেধ অমান্য করায় ঐতিহাসিকরা এই যুদ্ধকে ‘হারবুল ফুজ্জার’ বা অন্যায় যুদ্ধ নামে চিহ্নিত করেছেন। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৭৫)

বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, মহানবী (সা.) ‘হারবুল ফুজ্জার’-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত তীর একত্র করে চাচাদের হাতে দিতেন। তবে যুদ্ধের বয়স হলেও তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে অন্যায় যুদ্ধ হয়েছিল। (সিরাতে মোস্তফা : ১/৯১)। শাওয়াল মাসে হারবুল ফুজ্জার শেষ হলে জিলকদ মাসে মক্কার একদল সত্যান্বেষী যুবক ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে এক ঐতিহাসিক সামাজিক অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। যেহেতু এটি একটি অতিরিক্ত সামাজিক অঙ্গীকার ছিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছিল না, তাই তাকে ‘হিলফুল ফুজুল’ বা অতিরিক্ত অঙ্গীকার নামকরণ করেন। তবে কারো কারো অভিমত হলো, ফজল নামক কতিপয় ব্যক্তি এই অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ায় তাকে হিলফুল ফুজুল বলা হয়। মহানবী (সা.)-এর চাচা জোবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিব হিলফুল ফুজুলের প্রথম উদ্যোক্তা এবং আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে তা সংঘটিত হয়। তিনি অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। হিলফুল ফুজুলের মূল কথা ছিল মক্কা থেকে সব ধরনের অন্যায় ও অবিচার দূর করা। কোনো ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত হলে—সে স্থানীয় হোক ও ভিনদেশি, তাকে সাহায্য করা। (খাতামুন নাবিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৩৬; সিরাতে মোস্তফা : ১/৯২)

হিলফুল ফুজুলের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়, জোবায়দার নামক এক ব্যক্তি মক্কায় পণ্য বিক্রি করতে এলে তার কাছ থেকে হারিস ইবনে ওয়ায়েল পণ্য কেনে। কিন্তু সে যথাযথ মূল্য পরিশোধ করতে অস্বীকার করে। হারিস প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় কেউ সহযোগিতা করতে এগিয়েও এলো না। তখন সে জাবালে আবু কুবাইশের ওপর দাঁড়িয়ে হৃদয়স্পর্শী এক কবিতা পাঠ করে, যা কোরাইশের বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে এবং তারা সামাজিক অন্যায় রোধের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। ঐতিহাসিক এ অঙ্গীকারে মহানবী (সা.) অংশগ্রহণ করেছিলেন। নবুয়ত লাভের পর মহানবী (সা.) এই সামাজিক অঙ্গীকারে অংশগ্রহণের বিষয়টি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আবদুল্লাহ জুদআনের ঘরে একটি অঙ্গীকারে উপস্থিত ছিলাম, যা আমার কাছে লাল উটের চেয়ে প্রিয়। যদি ইসলাম আগমনের পরও আমাকে এ কাজের জন্য আহ্বান করা হতো, তবে আমি সাড়া দিতাম।’ (খাতামুন নাবিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৩৫)

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা