kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

মহানবী (সা.)-এর সমরনীতি

ড. ইকবাল কবীর মোহন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলাম শান্তির ধর্ম। সমাজের মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইসলাম বদ্ধপরিকর। অহেতুক যুদ্ধ-বিগ্রহ, অশান্তি, খুনাখুনিতে জড়াতে ইসলাম অনুমতি দেয় না। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) এসব ক্ষতিকর কাজ পছন্দ করতেন না। তার পরও দেখা যায়, মহানবী (সা.) নিজে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। অনেক সময় যুদ্ধে তিনি সাহাবিদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। অবশ্য তাঁর এসব যুদ্ধ ছিল মজলুমের সাহায্যের। ছিল চাপিয়ে দেওয়া শত্রুর বিপর্যয়হানির বিপরীতে আত্মরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আর জালিমদের বিরুদ্ধে মজলুমের পক্ষেই ছিল নবীজির এই যুদ্ধ। এসব মহৎ উদ্দেশে তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। মহানবী (সা.)-এর সমরনীতি ছিল নির্যাতন, নিপীড়ন ও অত্যাচার উত্খাতের মাধ্যমে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন এবং ইনসাফভিত্তিক বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে হিংসা থেকে, ক্ষমতার লড়াই থেকে এবং পররাজ্য দখলের লিপ্সা থেকে। অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে দুর্বলদের জমি দখল করার ইচ্ছা থেকে। অথচ মহানবী (সা.) দুনিয়ার বুকে এসব অসভ্য ও বর্বর সমরনীতির পরিবর্তে অধিকতর মানবিক ও আন্তর্জাতিক সমর আইনের প্রবর্তন করেন। যেসব নাগরিক স্বাধীনভাবে আপন ধর্ম পালনে ইচ্ছুক, তাদের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করাই ছিল তাঁর সমরনীতির মূল উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘কোনো সময় আক্রমণের আশা পোষণ করো না। নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর শরণাপন্ন হও। এ কথা স্মরণ রাখো যে শান্তি বিপর্যয় হবে তখন তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাত।’ মহানবী (সা.) আরো বলেন, ‘শত্রুশিবির হতে গ্রেপ্তার হলেও তারা যেন কোনো নির্দোষ নারী, শিশু, দুর্বল ও অসমর্থ বৃদ্ধলোককে হত্যা না করে।’ তিনি সাহাবাদের এ নির্দেশও দিতেন যে ‘তারা যেন ফলন্ত বৃক্ষ না কাটে কিংবা পরাজিতদের সম্পদ বিনষ্ট না করে।’

আল-কোরআনে আত্মরক্ষার জন্য, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং নিজস্ব সম্পদ রক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলা যুদ্ধকে অনুমোদন দিয়েছেন; বরং এসব ক্ষেত্রে যুদ্ধ করাকে আল্লাহ তাআলা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। মহানবী (সা.)-এর সমরনীতি আল-কোরআনের এই বিধানের আলোকে প্রণীত হয়েছিল। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে সুরা বাকারার ১৯০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর পথে ওই সব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের বিরোধিতা করছে। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন কোরো না।’

সুরা বাকারার ১৯৩ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয় এবং যতক্ষণ না ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।’

বিশ্বনবী (সা.)-এর যুদ্ধ কৌশল ছিল সুপরিকল্পিত। তাঁর সমরনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল, যাতে অত্যন্ত কম আক্রমণের উদ্দেশ্য সাধিত হয়। যুদ্ধে যাতে কম জীবন ও সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনকালে মোট ২৭টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি এসব যুদ্ধের নয়টিতে সরাসরি নেতৃত্ব দান করেন। তিনি কখনো যুদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হতেন না। কেননা তিনি শত্রুপক্ষ থেকে সন্ধি বা চুক্তির প্রস্তাব আসার জন্য অপেক্ষা করতেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাকে সুরা আনফালের ৬১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে ‘আর যদি তারা সন্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তুমিও সেদিকে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।’

সুরা আন নিসার ৯০ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে, তাহলে আল্লাহ তোমাদের তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ দেননি।’

মহানবী (সা.) আল-কোরআনের এসব নীতির প্রতি সব সময় প্রখর দৃষ্টি দিয়েছেন।

লেখক : কো-অর্ডিনেটর, ইসলামী ব্যাংকিং কনভারশন প্রজেক্ট, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। সাবেক ডিএমডি, ইসলামী ব্যাংক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা