kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

নবী-জীবনী

আরব উপদ্বীপে যেভাবে পৌত্তলিকতা ছড়িয়েছিল

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মক্কা নগরীর গোড়াপত্তন হয় ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের মাধ্যমে। ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যাশা ছিল তাঁর সন্তানরা একত্ববাদের ওপর অটল থাকবে। এ জন্য তিনি দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি এ স্থানকে নিরাপদ নগর করুন। এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের ফলমূল দ্বারা জীবিকা প্রদান করুন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৬)

ইসমাইল (আ.)-এর বংশধররা দীর্ঘদিন পর্যন্ত একত্ববাদ ও ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মাদর্শের ওপর অটল ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা পৌত্তলিকতার প্রতি ঝুঁকে যায়।

ইসলাম আগমনকালে সমগ্র আরব ছিল পৌত্তলিকতায় আচ্ছন্ন। আরবের প্রধান প্রধান দেব-দেবীর নাম হলো, হুবল, আসাফ, নায়িলা, মানাত, উজ্জা, লাত, ওদ্দা, সিওয়া, ইয়াউক, ইয়াগুস ও নাসর। তবে স্বল্পসংখ্যক মানুষ একত্ববাদের ওপর অটল ছিল এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে তখনো ইবরাহিমি ধর্মের কিছু রীতি অক্ষুণ্ন ছিল। তারা নিজেদের ‘দ্বিনে হানিফ’-এর অনুসারী দাবি করত। তাদের মৌলিক ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যগুলো ছিল—মূর্তি পূজা, মৃত, রক্ত, মূর্তির নামে জবাইকৃত পশু পরিহার করা এবং সন্তান হত্যা থেকে বিরত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের সময় দ্বিনে হানিফের অনুসারীদের মধ্যে জায়েদ বিন আমর ও ওরাকা ইবনে নওফল বিশেষভাবে স্মরণীয়। (প্রবন্ধ : ড. নাসির বিন সোলায়মান আল-আমর, জাজিরাতুল আরব বাইনাল তাশরিফ ওয়াত-তাকলিফ, পৃষ্ঠা ১৬)

আরব উপদ্বীপে পৌত্তলিকতা ছড়ায় দুই ভাবে : ক. কালক্রমে ইবরাহিমি ধর্ম থেকে আরবদের সরে যাওয়া, খ. বহিরাগতদের প্রভাব। আরব জাতির জন্য ‘কাবা’ ছিল সম্মান ও সম্ভ্রমের প্রতীক। এ ঘর কেন্দ্র করেই আরব সভ্যতার নবজন্ম হয়েছিল এবং ইসমাইল (আ.)-এর বংশধররা আরব ভূখণ্ডে অনন্য মর্যাদা লাভ করেছিল। প্রথমে তারা কাবাঘরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে মক্কা থেকে পাথর বয়ে আনত এবং তা যত্ন ও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করত। এরপর কাবার প্রতীক হিসেবে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাওয়াফের প্রচলন হলো। ক্রমান্বয়ে তারা মক্কা থেকে সংগৃহীত পাথর দিয়ে ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর মূর্তি তৈরি শুরু করে পূজা করতে আরম্ভ করে। এভাবেই আরব সমাজে পৌত্তলিকতার প্রবণতা প্রথমে তৈরি হয়েছিল। (প্রবন্ধ : ড. জাফর মুহাম্মদ দাইয়াব, আদ-দিনাতুল কিতাবিয়্যাহ ফি শিবহিল জাজিরাতিল আরাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২)

আরব ঐতিহাসিকরা পৌত্তলিকতার প্রবর্তক হিসেবে আমর বিন লুহাই খুজায়ির নাম উল্লেখ করেছেন। এ লোক তার ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত বিচক্ষণতার দ্বারা কাবার পরিচালনা পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত হয়। সে শাম থেকে আমালাকা গোত্র থেকে মূর্তি এনে কাবা চত্বরে স্থাপন করে।

নবী (সা.) বলেন, আমি ‘আমর ইবনে লুহাইকে তার বহির্গত নাড়ি-ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যক্তি যে দেবতার নামে পশু উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫২১)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, সে প্রথম ইবরাহিম (আ.)-এর দ্বিন বিকৃত করেছে। মহানবী (সা.)-এর আগমনকালে আরব উপদ্বীপের প্রধান ধর্মাচার ছিল পৌত্তলিকতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ও তার চত্বর থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন। যার বেশির ভাগ কাবা চত্বরে  সিসা দিয়ে আটকানো ছিল। এ সময় তিনি কাবাঘরের ভেতর ইবরাহিম (আ.)-এর একটি প্রকৃতি ও কবুতরের মূর্তিও অপসারণ করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা ২৭৮-২৮০; আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৫০)

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু



সাতদিনের সেরা