kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

প্রশ্ন-উত্তর

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়েকে সব সম্পত্তি লিখে দেওয়া

প্রশ্ন : আমার এক চাচার তিন মেয়ে আছে, কোনো ছেলে নেই। যেহেতু ইসলামের বিধানমতে, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কিছু সম্পত্তির মালিক ভাই ও ভাতিজারা হবে, তাই তিনি ভয়ে তাঁর সম্পত্তিগুলো তাঁর মেয়ের নামে দলিল করে দিতে চান। ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?

     —গোলাম খালেক, লক্ষ্মীপুর।

উত্তর : মানুষের মৃত্যুর পর সম্পদ বণ্টনের ইসলামী বিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। ইসলামসম্মত কোনো কারণ ছাড়া সেই বণ্টন প্রত্যাখ্যানের কোনো উপায় তালাশ করা উচিত নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির জন্য ভাই ও ভাতিজাদের বঞ্চিত করার লক্ষ্যে মেয়েদের নামে দলিল করে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়। যদিও সুস্থ অবস্থায় সে তার সম্পত্তি মেয়েদের দলিল করে তাদের দখলে দিয়ে দিলে তারা মালিক হয়ে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৫/৬৯৬, হাশিয়াতু তাহতাভি : ৩/৪০০, এমদাদুল মুফতিন : ৮৭০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৭২)।

 

নাবালক কি আজান দিতে পারে?

প্রশ্ন : আমাদের ইমাম সাহেবের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। সে পবিত্র কোরআন শুদ্ধ করে পড়তে পারে এবং নামাজও পড়া শিখে গেছে। সে মাঝেমধ্যে আমাদের মসজিদে আজান দেয়। এ নিয়ে এলাকার অনেকের সন্দেহ হয় যে এত ছোট বাচ্চা আজান দিলে আজান আদায় হবে কি না। এ ব্যাপারে ইসলামের মতামত কী?

     —আরিফুর রহমান, আশুলিয়া।

উত্তর : নাবালক ছেলের বোধশক্তি পাকাপোক্ত হলে এবং আজান শুদ্ধভাবে দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন হলে তার আজান শুদ্ধ হবে। (তুহফাতুল ফুকাহা : ১/১১১, হিন্দিয়া : ১/৫৪, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/১৮৫)।

 

নামাজ অবস্থায় সরে গিয়ে অন্যকে জায়গা করে দেওয়া

প্রশ্ন : জামাতে নামাজরত অবস্থায় একই কাতারে দুই ব্যক্তি দুই পাশে কিছু সরে দাঁড়িয়ে তৃতীয় ব্যক্তিকে জায়গা দিলে উভয় নামাজির নামাজের কোনো ক্ষতি হবে কি?

     —আতাউর রহমান, খুলনা।

 

উত্তর : জামাতে নামাজরত অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি কাতারে দাঁড়ানো দুই ব্যক্তির মাঝখানে দাঁড়াতে চায়, আর তারা দুই পাশে কিছু সরে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে জায়গা করে দেয়, তাহলে তাদের কারো নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬২২, রদ্দুল মুহতার : ১/৬২২)।

 

টাখনুর নিচে গাউন পরা

প্রশ্ন : অনেক ইমাম সাহেব জুমার নামাজ পড়ানোর সময় গাউন পরেন। যে গাউনগুলো টাখনুর নিচে চলে যায়, সেগুলো পরা কি জায়েজ? এগুলো পরে নামাজ পড়ালে নামাজের বিধান কী?

     —রনি চৌধুরী, বারিধারা, ঢাকা।

উত্তর : পায়ের টাখনু আবৃত হয়ে যায়, এমন যেকোনো ধরনের কাপড়, লুঙ্গি, পায়জামা, স্যুট, গাউন, জামা ইত্যাদি পরিধান করা পুরুষের জন্য সর্বাবস্থায় নাজায়েজ ও কবিরা গুনাহ। এভাবে কাপড় পরে নামাজ পড়া মাকরুহ। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৭, আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৯৪, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫৭২, মুসনাদে আহমদ : ৭৮৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৪৯৯)।

 

মসজিদে কি ধূপ জ্বালানো যাবে?

প্রশ্ন : ইদানীং মশার উপদ্রব খুব বেড়ে গেছে। মুসল্লিরা নিরিবিলি নামাজ পড়তে পারেন না। কয়েল, অ্যারোসলও ঠিকঠাক কাজ করছে না। মশা তাড়ানোর জন্য কি মসজিদে ধূপ জ্বালানো যাবে?

     —আতিক, কুমিল্লা।

উত্তর : দুর্গন্ধময় যেকোনো জিনিস মসজিদে জ্বালানো নিষিদ্ধ। যদি কয়েল জ্বালালে মসজিদে দুর্গন্ধ হয় তাহলে কয়েল জ্বালানো যাবে না। আর দুর্গন্ধমুক্ত কয়েল থাকলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। (রদ্দুল মুহতার : ১/৬৬১, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৯/১০৭)।

 

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ বসুন্ধরা, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা