kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

অসুস্থতা যখন জান্নাতে যাওয়ার উপায়

রায়হান রাশেদ   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুস্থতা এবং অসুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত। আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো প্রাণী অসুস্থ হতে পারে না। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন তাকে কষ্ট দেন, রোগ দেন। নবী, সাহাবি, বুজুর্গ ও আল্লাহর পছন্দনীয় অনেক ব্যক্তি রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আইয়ুব (আ.)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সৃষ্টিজগতে আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় মানুষ হলেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি আল্লাহর প্রিয় বন্ধু। আল্লাহ তাআলা তাঁকেও রোগ দিয়েছেন, অসুস্থ করেছেন, কষ্টে ফেলেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর চেয়ে বেশি রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী কাউকে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৬)

অসুস্থতা আল্লাহর দয়া। তাঁর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর পাঠানো রহমত। বান্দার কল্যাণে আল্লাহ তাকে অসুস্থ করেন। বান্দাকে ভরপুর কামিয়াবি দান করতে রুগণ করেন। অসুস্থতা হাহুতাশ কিংবা নিরাশের বিষয় নয়। অসুস্থতা শোকরিয়া আদায়ের প্রশস্ত জায়নামাজ। দৃঢ় বিশ্বাস আর একান্ত মনে আল্লাহমুখী হওয়ার শুভক্ষণ। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন, তাকে তিনি দুঃখ-কষ্টে পতিত করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৫)

মানুষ গুনাহ করে। গুনাহ করা মানুষের স্বভাব। গুনাহ করলে আল্লাহ নারাজ হন। অসুস্থতায় গুনাহ মাফ হয়, অন্তর পরিষ্কার হয় ও পাপ ক্ষয় হয়। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে বিপদ-আপদ আসে, এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফোটে, এর দ্বারাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৪০)। আরকটি হাদিসে আরো বাঙ্ময় হয়ে ফুটে উঠেছে কথাটি। আবু সাঈদ খুদরি ও আবু হুরায়রা (রা.) উভয়ে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরাশানি আসে। এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৪২)

রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্টের দ্বারা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়। বান্দা তখন পাকপবিত্র হয়ে যায়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, আমি নবী (সা.)-এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। ওই সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললাম, নিশ্চয় আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে আপনার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হয়, তার থেকে গুনাহ এভাবে সরে যায়, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো সরে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৭)

অসুস্থতার তীব্রতা এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ ঈমানদান ব্যক্তিকে জান্নাত অবধি নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে হাদিসের নির্দেশনা আছে। আতা ইবনে আবু রাবাহ (রা.) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা.) আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতি নারী দেখাব? আমি বললাম, অবশ্যই। তখন তিনি বলেন, এই কালো রঙের নারী জান্নাতে যাবে। ওই নারী নবী (সা.)-এর কাছে এসেছিল। ওই নারী রাসুল (সা.)-এর দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী (সা.) বলেন, তুমি যদি চাও ধৈর্য ধারণ করতে পারো। কেননা তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তোমাকে আরোগ্য করেন। ওই নারী বলল, আমি ধৈর্য ধারণ করব। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৫২)

এই হাদিস থেকে জানা যায়, অসুস্থতার তীব্রতা এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করলে তা জান্নাতে যাওয়ার উপলক্ষ হয়।

মন্তব্য