kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

প্রশ্ন-উত্তর

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেছে ভালো পণ্য নিলে দাম বাড়িয়ে দেওয়া

প্রশ্ন : একজন ফল বিক্রেতা শর্ত দিল যে তার ফলগুলো কেউ নিজ হাতে বেছে নিতে চাইলে কেজিতে ২০ টাকা বেশি দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে বেচাকেনা করা কি জায়েজ?

রায়হান, গাবুয়া, নোয়াখালী।

উত্তর : যদি আগে থেকেই ক্রেতা ও বিক্রেতা এই মূল্যে রাজি হয়, তাহলে জায়েজ। অন্যথায় বিবাদের আশঙ্কা থাকায় এরূপ ক্রয়-বিক্রয় সহিহ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৪/৫০৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৯/৪২৫)

 

আরবি নিয়ত পড়া কি বাধ্যতামূলক?

প্রশ্ন : আমাদের মুরব্বিরা নামাজে আরবিতে নিয়ত পড়েন। আমাদেরও আরবিতে নিয়ত পড়ার জন্য উৎসাহ দেন। প্রশ্ন হলো, নামাজে দাঁড়ানোর সময় আরবিতে নিয়ত পড়া কি বাধ্যতামূলক?    

আরিফুর রহমান, চাঁদপুর।

উত্তর : অন্তরের সংকল্পকেই নিয়ত বলা হয়। তাই নামাজের সময় অন্তরে ওই নামাজের নিয়ত থাকাই যথেষ্ট। আরবি বা বাংলা কোনো ভাষাতেই মৌখিক উচ্চারণের প্রয়োজন নেই। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/২৪০)

 

স্ত্রীর সঙ্গে ওয়াদা করে রাখতে না পারলে

প্রশ্ন : স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে ওয়াদা করে যে অমুক তারিখে বাড়ি আসব। পরে যদি ওয়াদামতো আসতে না পারে তাহলে কি স্বামী গুনাহগার হবে?

ফেরদৌস আরা বেগম, কুমিল্লা।

 

উত্তর : স্বামী যদি স্ত্রীকে ওয়াদা করার সময় তা পুরা করার নিয়ত করে এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও কোনো ওজরবশত (যৌক্তিক কারণে) পুরা করতে না পারে, তাহলে গুনাহ হবে না। তবে বিনা ওজরে (যৌক্তিক কারণে) পূরণ না করলে গুনাহ হবে। (জামিউল ফাতাওয়া : ১/৬৬৩, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/৩৭৫)

 

প্রতিদিন দূরপাল্লার সফর করলে কসর পড়বে?

প্রশ্ন : কত কিলোমিটার দূরে সফরে গেলে কসর নামাজ আদায় করতে হয়? কাউকে যদি সে পরিমাণ দূরত্বে চাকরির সুবাদে প্রতিদিন যেতে হয়, তাহলে কি সে প্রতিদিনই কসর পড়বে? বিশেষ করে যারা গাড়ি চালায়।

আল আমিন, চাঁদপুর।

উত্তর : নিজ বাসস্থান থেকে ৪৮ মাইল তথা ৭৭.২৫ কিলোমিটার দূরত্বে সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে কসর নামাজ আদায় করতে হয়। সফরের দূরত্বে প্রতিদিন গেলেও প্রতিদিনই মুসাফির হবে এবং কসর পড়বে। (রদ্দুল মুহতার : ২/১২৩, হিন্দিয়া : ১/৩৬২, ১/৩৬৩, জাওয়াহিরুল ফিকহ : ১/৪৩৮, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৪/২৮৩)

 

অমুসলিমের মাধ্যমে খতনা করানো যায়?

প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় একজন অমুসলিম ডাক্তার আছেন, খুব ভালো চিকিৎসা করেন। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্কও খুব ভালো। আমার ছেলের খতনা করানো প্রয়োজন। কিন্তু খতনা যেহেতু ইসলামের একটি নিদর্শন। কোনো অমুসলিম ডাক্তার দ্বারা এ কাজ সম্পাদন করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ?

মশিউর রহমান, চট্টগ্রাম।

উত্তর : ইসলামে দুই ধরনের বিধান আছে। একটি হলো মুখ্য, আরেকটি হলো সহায়ক। মুখ্য বিধি-বিধান বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। আর সহায়ক বিধি-বিধান বাস্তবায়নের জন্য মুসলিম হওয়া জরুরি নয়, তবে হলে ভালো। যেহেতু খতনা সহায়ক বিধানের অন্তর্ভুক্ত, তাই অমুসলিম দ্বারাও খতনা করা যাবে। (কিফায়াতুল মুফতি : ২/২৯৬, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/৩৯০)

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ বসুন্ধরা, ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা