kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

শয়তান মানবমনে কুধারণা তৈরি করে

মুফতি সাআদ আহমাদ   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘটনাটি পবিত্র রমজানের শেষ দশকের। রহমতের আশা আর মাগফিরাতের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে রমজানের দুই দশক এরই মধ্যে অতীত হয়ে গেছে। নাজাতের দশক মুক্তির দশক। মুক্তিলাভের একবুক আশা নিয়ে মহান আল্লাহর ঘরে ইতিকাফে বসেছেন মুসলমানরা। মুক্তিপ্রার্থীদের এ তালিকায় আছেন নিষ্পাপ নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেও। আছেন তাঁর প্রিয় সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

একরাতে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী সয়িয়্যা (রা.) তাঁর সাক্ষাতে এলেন। তখন গভীর রাত। মসজিদের এক কোনে বসে নবীজির সঙ্গে কথাবার্তা সারলেন। এখন বিদায় নেওয়ার পালা।

নবীজি (সা.) তাকে বিদায় জানাতে মসজিদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে গেলেন। একটু আড়াল করে দুজন কথা বলছেন। তবে আশপাশে কেউ নেই। উপরন্তু রাতের আঁধার তাদের উভয়ের ওপর চাদর মেলে ধরেছে।

এদিকে মদিনার দুই আনসারী সাহাবি। উসাইদ বিন হুজাইর এবং আব্বাদ বিন বিশর (রা.) রাতে ঘরে ফিরছেন। বাহির থেকে আসতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। মসজিদের গা ঘেঁষে বয়ে চলা মেঠোপথে আনমনে হাঁটছেন দুজন। হঠাৎ চোখ পড়ল মসজিদের কোনায়।

কেউ দুজন দাঁড়িয়ে আছেন। ভালো করে পরখ করে দেখলেন একজন পুরুষ অপরজন নারী। এত রাতে এরা দুজন মসজিদের দোরগোড়ে করছেটা কী! উত্সুকচিত্তে আরো একটু এগিয়ে গেলেন। হ্যাঁ, এ তো নবীজি (সা.)। তবে মহিলাটিকে ভালো চেনা যাচ্ছে না।

নবীজি (সা.) যেহেতু এখানে আছেন তবে আর কিছু দেখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ কিছু হলে নবীজি (সা.) নিজেই সামলে নিতে পারবেন। এই ভেবে তারা আর সামনে বাড়লেন না। নিজেদের উদ্দেশ্যের পথে অগ্রসর হতে লাগলেন।

হঠাৎ কেউ হেঁটে যাওয়ার শব্দে নবীজি (সা.) পেছন ফিরে চাইলেন। রাস্তার অপর ধার দিয়ে দুজন  অতিক্রম করছে। হাঁটার ভঙ্গি থেকেই নবীজি (সা.) সহজেই তাদের অনুমান করে নিলেন। কিন্তু মুখে কিছু বললেন না।

এখন তারা একেবারে নবীজির সামনে চলে এসেছে। লজ্জাবনত চোখে শুধু সালাম দিয়েই জোর পায়ে হেঁটে নবীজিকে অতিক্রম করার চেষ্টা। এমন পরিস্থিতির জন্য হয়তো তারা মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না।

বিষয়টি নবীজির চক্ষু এড়ায়নি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উভয়কে ডাক দিলেন। কাছে নিয়ে নির্ভয় দিলেন এবং বললেন, আরে! এ তো তোমাদের মা সাফিয়্যা (রা.)। (আমার স্ত্রী) যাতে তাদের ইতস্ততাবোধ দূর হয় এবং কোনো সন্দেহ থাকলে তার অবসান ঘটে।

লজ্জায় তারা দুজন লাল হয়ে গেছেন ততক্ষণে। আসলে এমনটা তাদের কল্পনায়ও ছিল না। উভয়ে সমস্বরে বলে উঠলেন, ‘সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসুল, অন্য কেউ হলে হয়তো ভিন্ন কিছু চিন্তা করার অবকাশ ছিল। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এমনটা তো আমরা ভাবতেও পারি না।

নবীজি (সা.) তাদের অশ্বস্ত করে বলেন, দেখো, শয়তান মানুষের রক্তে মিশে আছে। শিরায় শিরায় রক্তের প্রবাহের মতো বিচরণ করে। তোমাদের মনে সে এ ব্যাপারে কোনো ধোঁকা না দেয়, তাই আগে থেকেই সতর্ক করলাম। (বুখারি, ১৬১৫৬ নং হাদিস অবলম্বনে)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা