kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

ওমর ইবনে আবদুল আজিজের চিঠি

মুসলিম জাতির বিশ্বজয়ের রহস্য

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় ওমর ও পঞ্চম ন্যায়পরায়ণ খলিফা হিসেবে খ্যাত। তিনি ৯৯ হিজরিতে খলিফা মনোনীত হন এবং ১০১ হিজরিতে বিষপ্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়। এই স্বল্প সময়ে তিনি সুশাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সেনাপতি মানসুর ইবনে গালিবের উদ্দেশে তিনি এক ঐতিহাসিক চিঠি লেখেন। যাতে দেশ বিজয়ে মুসলিম বাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি দারুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। ‘মুখতারাত’ গ্রন্থ থেকে চিঠিটির সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন হাবিবা রহমান উজরা

সালামের পর, আল্লাহ তোমাদের যে অবস্থায় রাখেন না কেন তোমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহভীতি অবলম্বন করো। কেননা আল্লাহভীতিই হলো সর্বোত্তম অবলম্বন, শ্রেষ্ঠ কৌশল ও সবচেয়ে দৃঢ় শক্তি। তুমি শত্রুর যেকোনো বিষয়ের চেয়ে নিজের ও নিজের সঙ্গীদের আল্লাহর অবাধ্যতার ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকবে। কেননা আমার কাছে পাপাচার মানুষের জন্য শত্রুর চক্রান্তের চেয়েও ভয়ংকর। আমরা শত্রুদের মোকাবেলা এবং তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে সক্ষম হই তারা আল্লাহর অবাধ্য বলেই। যদি তারা আল্লাহর অবাধ্য না হতো তবে তাদের বিরুদ্ধে পেরে ওঠার মতো শক্তি আমাদের ছিল না। কেননা, আমরা অস্ত্র-শস্ত্র ও সৈন্যসংখ্যায় তাদের সমপর্যায়ের নই।

আল্লাহর নাফরমানির ক্ষেত্রে যদি আমরা ও তারা বরাবর হয়ে যেতাম, তাহলে শক্তি ও সৈন্যসংখ্যার দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে বেশি ও উন্নত হওয়ায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছুতেই জয়লাভ করতে পারতাম না। আমরা তাদের আমাদের শক্তিবলে পরাজিত করতে পারতাম না। আর তোমরা নিজেদের গুনাহর চেয়ে মানুষের শত্রুতা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। নিজেদের গুনাহর চেয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি বেশি দৃষ্টি দিয়ো না। জেনে রাখো, তোমাদের সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত হিসাব সংরক্ষণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, তাঁরা  তোমাদের ঘরে ও বাইরের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানেন। সুতরাং তাঁদের লজ্জা কোরো। তাদের উত্তম সান্নিধ্য দান কোরো।

আল্লাহর রাস্তায় থেকে আল্লাহর নাফরমানি করে তাদের কষ্ট দিয়ো না। আর এ কথা বলো না, আমাদের শত্রুরা আমাদের চেয়ে নিকৃষ্ট। সুতরাং আমরা গুনাহ করলেও তাদের কিছুতেই চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কেননা এমন বহু সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের ওপর তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট জাতিকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা নিজেদের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করো, যেভাবে তোমরা তার কাছে তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করো। আমি আমার ও তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তুমি তোমার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নম্রতা অবলম্বন কোরো এবং তাদের ওপর অধিক ভ্রমণ চাপিয়ে দিয়ো না এবং তাদের পছন্দের জায়গায় ঘাঁটি স্থাপনের পরিবর্তে দূরে কোথাও যাওয়ার আদেশ দিয়ো না। যাতে তারা এমনভাবে শত্রুর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হতে পারে, যে ভ্রমণে ক্লান্ত। কেননা তারা যুদ্ধে সাজ-সরঞ্জামে সমৃদ্ধ এক শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হবে। পথিমধ্যে যদি তারা নিজেদের ও নিজেদের বাহন জন্তুগুলোকে বিশ্রাম দিতে না পারে, তাহলে শত্রুপক্ষ তুলনায় বেশি শক্তিশালী থাকবে। যেহেতু তারা নিজেরা এবং তাদের বাহন জন্তুগুলো বিশ্রামে ছিল।

এক আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে। প্রতি সপ্তাহে এক দিন এক রাত সঙ্গীদের নিয়ে কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে বিশ্রাম নেবে। এতে তাদের ও তাদের বাহন জম্ভগুলোর বিশ্রাম লাভ হবে আর তারা তাদের অস্ত্র-শস্ত্রগুলোও ঠিকঠাক করে নিতে পারবে। সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ জনপদ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ঘাঁটি স্থাপন করবে। দ্বিনদার আস্থাভাজন ও আমানতদার ব্যক্তিরা ছাড়া সঙ্গীদের মধ্যে অন্য কেউ যেন সেই জনপদে বাজার ও জনসমাগমে প্রবেশ না করে। তারা যেন অন্যায়ভাবে তাদের থেকে কিছু গ্রহণ না করে, কোনো অপরাধ না করে। অন্যায়ভাবে তাদের কাউকে কষ্ট না দেয়। কেননা তাদের জান-মাল রক্ষা ও নিরাপত্তা লাভের অধিকার রয়েছে, আর তা যথাযথ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করা হয়, যেমনিভাবে মুসলিমদের অধীনতার মাধ্যমে জিম্মিদের ধৈর্যের পরীক্ষা করা হয়। সুতরাং যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য ধৈর্য ধারণ করবে, ততক্ষণ তোমরা তাদের প্রাপ্য অধিকার পূর্ণরূপে আদায় করে দেবে। সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ নগরবাসীদের ওপর অত্যাচার করে তোমরা অবিশ্বাসীদের ওপর বিজয় কামনা কোরো না। আল্লাহর শপথ! তাদের কাছ থেকে বৈধ উপায়ে যে সম্পদ তোমরা প্রাপ্ত হয়েছ, তোমাদের জন্য তাই যথেষ্ট। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা