kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

রাশিয়ায় টিউলিপের আদলে লালা তুলপান মসজিদ

বেলায়েত হুসাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুচি ও সৌন্দর্যবোধে তুর্কি মুসলিমদের সুনাম বিশ্বজুড়ে। বিশেষত মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে তাদের শিল্পশৈলীর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। বাশকোরতোস্তান প্রজাতন্ত্র রাশিয়া শাসিত একটি ফেডারেল রাজ্য। এখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু এবং তাদের বেশির ভাগ তাতার কিংবা বাশকির জাতির অন্তর্ভুক্ত। তবে তারা তুর্কমেন মুসলিম দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত। বাশকোরতোস্তানের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামী স্থাপনা অন্তত সে স্বাক্ষরই বহন করে।

রাজ্যের রাজধানী ওয়াফায় ঠিক এমনই নান্দনিক একটি মসজিদ ‘লালা তুলপান’। যার বাংলা অর্থ ফুটন্ত টিউলিপ। ৫৩ মিটার লম্বা মসজিদের যমজ দুটি মিনার অবিকল ফুটন্ত টিউলিপের মতো দেখতে। উচ্চতায় মিনার দুটি রাশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন মিনার দুটি রক্তলাল টিউলিপের মতো হাসছে। বাশকির কিংবদন্তি অনুসারে ফুলটি তুর্কমেনদের ঐতিহ্যের প্রতীক। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত, আধফোঁটা টিউলিপের অন্তরে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় ১৫০ জাতের টিউলিপ তুর্কিদের নিকট খুব প্রিয়। বর্তমান তুরস্কের বেশির ভাগ দর্শনীয় স্থানেই রকমারি টিউলিপের বাহার দেখতে পাওয়া যায়।

ফুটন্ত টিউলিপের আদলে নির্মিত লালা তুলপান মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯০ সালে এবং দীর্ঘ আট বছরের পরিশ্রমে তা ১৯৯৮ সালে সমাপ্ত হয়। ব্যয়ভার বহন করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও রাজ্য সরকার। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে প্রকৌশলী ওয়াকিল ড্যাভল্যাশিনের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়। এখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে একসঙ্গে অন্তত এক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। নির্মাণের পর থেকেই এটি রাজ্যের প্রধান ইসলামী কেন্দ্র  হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে বাশকোরতোস্তান অন্যতম। এক লাখ ৪৩ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রজাতন্ত্রের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এদের মধ্যে প্রায় ৩৮.৬ শতাংশ মুসলিম। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত এই প্রজাতন্ত্রে মাত্র ১৬টি মসজিদ থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি। রাশিয়ায় ইসলামিক সংস্কৃতিতে তাতার মুসলিমদের এসব মসজিদ বেশ পরিচিত। স্থাপত্য সৌকর্যের উন্নত মান অনুসরণে নির্মিত এসব মসজিদ শুধু স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বই করে না; বরং পর্যটন ও দর্শনীয় স্থান বিবেচনায় দেশের অর্থনীতিতে বেশ অবদান রাখে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ওয়াফায় অনুষ্ঠিত এক সভায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর দেশে মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সূত্র : রুয়াগ ম্যাগাজিন ও আলজাজিরা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা