kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

মহানবী (সা.) চার আমল কখনো ত্যাগ করতেন না

মুফতি তাজুল ইসলামf   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহানবী (সা.) চার আমল কখনো ত্যাগ করতেন না

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গোটা জীবনকর্ম তাঁর উম্মতের জন্য অনুকরণীয়। গুরুত্বের দিক থেকে কিছু আমল ওয়াজিব, কিছু আমল সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং কিছু আমল সুন্নতে জায়েদা বা নফল। সুন্নত কাজগুলোর মধ্যে এমন কিছু কাজ আছে, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো ত্যাগ করতেন না। নিম্নে এমন কিছু আমল বর্ণনা করা হলো—উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বলেন,  রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি আমল কখনো ত্যাগ করতেন না। আমলগুলো হলো—এক. আশুরার রোজা। দুই. রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। তিন. প্রতি মাসের তিন দিন তথা আইয়ামে বিজের রোজা, চার. ফজরের ফরজের আগের দুই রাকাত নামাজ। (নাসায়ি, মিশকাত : ২০৭০)

১. আশুরার রোজা : মহররম মাসের দশম দিনকে আশুরার দিন বলা হয়। এ দিনের রোজা রাখারও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক প্রশ্নের জবাবে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আশুরার এক দিনের সাওম বিগত এক বছরের গুনাহর কাফফারা হিসেবে গৃহীত হয়।’ (মুসলিম : ১১৬২)

ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) আমাদের (রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে) আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। আর এ বিষয়ে তিনি নিয়মিত আমাদের খবরাখবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না, নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরাখবরও নিতেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১২৮)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন, অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে সেরূপ গুরুত্ব প্রদান করতে দেখিনি।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০৬, মুসলিম, হাদিস : ১১৩২)

২. রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ : ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। ইসলামের পরিভাষায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। মদিনায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবছর ইতিকাফ পালন করেছেন। শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রমজানে তিনি ইতিকাফ ছাড়েননি। ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম : ১১৭১)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) প্রতি রমজানে ১০ দিন ইতিকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি ২০ দিন ইতিকাফে কাটান।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

৩. আইয়ামে বিজের রোজা : আবু জার গিফারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আবু জার, যদি তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করতে চাও, তাহলে (প্রতি চাঁদের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে তা পালন করো।’ (তিরমিজি : ৭৬১)

রাসুল (সা.) মাসের এই তিন দিন নিয়মিত রোজা রাখতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বাড়িতে থাকাবস্থায় বা সফরে থাকাবস্থায় কখনোই আইয়ামে বিদের রোজা ছাড়তেন না। (নাসায়ি, রিয়াজুস সালেহিন : ১২৬৪)

৪. ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ফজরের নামাজের আগের দুই রাকাত নামাজ আমার কাছে সারা পৃথিবীর চেয়ে প্রিয়। (মুসনাদ আহমদ, মুসলিম ও তিরমিজি)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ কোরো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)

মহান আল্লাহ আমলগুলো বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা