kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আয়ারল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান ধর্ম ইসলাম

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আয়ারল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান ধর্ম ইসলাম

উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের ছিমছাম সাজানো-গোছানো ছোট্ট স্বর্গীয় দ্বীপ আয়ারল্যান্ড। এর আয়তন ৩২ হাজার ৫৯৫ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৭২৮ জন। এখানকার সবচেয়ে বড় শহর ডাবলিন। লম্বাটে আকৃতির এ শহরের উত্তর-দক্ষিণের দৈর্ঘ্য মাত্র ৪৬৫ কিলোমিটার এবং পাশে মাত্র ২৮৫ কিলোমিটার। উত্তর-পশ্চিমা বিশ্বের অন্য দেশের মতো আয়ারল্যান্ডেও আছে মুসলিম অধিবাসী। পশ্চিমের অন্য দেশের চেয়ে এখানে কম বয়সের মুসলমানের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ৪৪৩ জন, যা ২০২০ সালে এসে এক লাখে পৌঁছেছে। এক তথ্যমতে, ২০০২ ও ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী সময় আয়ারল্যান্ডে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে ৭০ শতাংশেরও বেশি। এই হিসাবে দেশটির সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হলো ইসলাম। আয়ারল্যান্ডের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০৪৩ সাল নাগাদ মুসলমানরাই হবে আয়ারল্যান্ডে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক। (https://www.independent.ie)

আয়ারল্যান্ডের মুসলিম অধিবাসীদের মধ্যে নানা বর্ণ ও এলাকার সমাবেশ লক্ষ করা যায়। অতীতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো থেকে এখানে মুসলমানদের আগমন ঘটে। শিক্ষার প্রয়োজনে অথবা জীবিকার সন্ধানে মুসলমানরা এখানে আসে। তাদের অনেকেই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে। অনেকে আবার আইরিশ মেয়েদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করে। ১৯৯০ সালের শুরুতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা ও বলকান এলাকা থেকে মুসলমানরা আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমায়। এর মধ্যে অনেকেই অভিবাসী এবং অন্যরা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশী। রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে নাইজেরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, সোমালিয়া, আলজেরিয়া ও অন্যান্য দেশের মুসলমানরা রয়েছে। আইরিশ অধিবাসীদের মধ্য থেকে কিছু নওমুসলিমও সেখানে রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের মুসলিম জনসংখ্যার বেশির ভাগই সুন্নি মতাবলম্বী। দেশটির রাজধানী ডাবলিনে অনেক শিয়া মতবাদের মুসলমানও আছে।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে মুসলমানদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে, যার নাম ‘ইসলামিক কালচারাল সেন্টার অব আয়ারল্যান্ড’। এটি চার একর জমির ওপর অবস্থিত একটি কমপ্লেক্স। এখানে একটি স্কুল আছে। কমপ্লেক্সটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুবাইয়ের উপশাসক ও আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী শেখ হামদান বিন রাশিদ আল-মাকতুম পরিচালিত ‘আল-মাকতুম ফাউন্ডেশন’-এর জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। ‘ইসলামিক কালচারাল সেন্টার অব আয়ারল্যান্ড’-এর মসজিদটি হলো আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর আয়তন পাঁচ হাজার বর্গমিটার বা ১৬ হাজার ৪০৪ বর্গফুট।

২০০৯ সালে সৌদি সরকার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাদের দূতাবাস খুলেছে। ফলে দেশটিতে মুসলমানদের জন্য একটি নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ডাবলিনে একটি স্কুল ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। ব্লানচারড টাউনে অবস্থিত আল-মোস্তফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ওমর কাদরি বলেন, ‘যদি স্কুল ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তাহলে এটি হবে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এর ফলে আয়ারল্যান্ডে একটি বড় প্রভাব পড়বে।’

বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের প্রতি মুসলিম পর্যটকদের উৎসাহী করতে আয়ারল্যান্ডের হোটেলগুলোকে সাজানো হয়েছে মুসলমানদের উপযোগী করে। যেখানে হোটেলকক্ষে কোনো অ্যালকোহল থাকবে না, হালাল খাবার পরিবেশন করা হবে, থাকবে অজুর সুব্যবস্থা, নামাজের জন্য দেওয়া হবে মানসম্মত জায়নামাজ। এ ছাড়া হোটেলকক্ষে নামাজের ক্ষেত্রে মুসলিম পর্যটকদের চাহিদার ভিত্তিতে দেওয়া হবে কিবলা নির্দেশিকা ও পবিত্র আল কোরআন। (আয়ারল্যান্ড ডটকম)

মহান আল্লাহ আয়ারল্যান্ডের মুসলমানদের কবুল করুন। শান্তির বার্তা নিয়ে আয়াল্যান্ডের মুসলমানরা আত্মপ্রকাশ করুক সে দেশের প্রধান সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক হিসেবে। ইসলামের সুশীতল পাতাকা তলে আসুক গোটা বিশ্ব।

মন্তব্য