kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঈমান যে বন্ধুত্বের ভিত রচনা করে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈমান যে বন্ধুত্বের ভিত রচনা করে

আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ভালো লোকদের সাহচর্যের ও মন্দ লোকের সাহচর্যের দৃষ্টান্ত—কস্তুরী বিক্রেতা ও হাপরে ফুঁকদানকারী। কস্তুরী বিক্রেতা হয়তো তোমাকে উপহারস্বরূপ ঘ্রাণ নিতে দেবে বা তুমি তার কাছ থেকে কিনে নেবে অথবা সুঘ্রাণ নিজেই তোমার কাছে পৌঁছে যাবে। আর হাপরে ফুঁকদানকারী হয়তো তোমার কাপড় পুড়ে ফেলবে অথবা তোমাকে দুর্গন্ধ সহ্য করতে হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৫৩৪)

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) সৎসঙ্গ গ্রহণ এবং অসৎ সঙ্গ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভালো বন্ধু ও সঙ্গী সব সময় কল্যাণকর ও উপকারী হয়। আর মন্দ বন্ধু ও সঙ্গী সব সময় অকল্যাণই বয়ে আনে।

উপকারী বন্ধুর পরিচয় : সুফি ও সাধক আলেমরা বলেন, ভালো মানুষ তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সংস্রব ও সাহচর্য কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়ে উত্তম ও প্রয়োজনীয়। কেননা আল্লাহর প্রিয় বান্দারা অন্যদের দ্বিনি বিষয়াদি শিক্ষা, সুপথের দিশা দেয় এবং দুনিয়া-আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করে। একই সঙ্গে তারা আল্লাহর আনুগত্য, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখার প্রতি উৎসাহিত করেন। তাঁর কথা, কাজ ও জীবনাচার দ্বারা অন্যরা সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহী হন এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকার শক্তি খুঁজে পান। (বাহজাতু কুলুবিল আবরার, পৃষ্ঠা ২৬৬)

বন্ধুত্ব যেভাবে সৌরভ ছড়ায় : মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ভিত্তিতে হয়, তখন সে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব সর্বত্র সৌরভ ছড়ায়। এমনকি তা পরকালে বান্দার মুক্তির কারণ হয় এমন বন্ধুত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন—(তাদের অন্যতম) যে দুই ব্যক্তি, যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর জন্য, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

বন্ধু নির্বাচনে কোরআনের নির্দেশনা : বন্ধু ও সঙ্গী নির্বাচন বিষয়ে কোরআনের একাধিক আয়াতে দিকনির্দেশনা এসেছে। যেমন—মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

অসৎ বন্ধু আক্ষেপের কারণ : বন্ধু নির্বাচনে ভুল হলে এবং অসৎ ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে ব্যক্তিকে ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়, আক্ষেপ করতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবিচারকারী ব্যক্তি সেদিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করতাম। হায়! দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে উপদেশ পৌঁছাবার পর, শয়তান তো মানুষের জন্য মহা প্রতারক। (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭-২৯)

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বন্ধু নির্বাচন এবং অসৎ সঙ্গ ত্যাগের তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

মন্তব্য