kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অমুসলিম প্রতিবেশীর মৃত্যুতে করণীয়

মুফতী সাইফুল ইসলাম   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অমুসলিম প্রতিবেশীর মৃত্যুতে করণীয়

মানুষ মাত্রই মরণশীল। প্রতিদিন পৃথিবীতে যেমন বহু মানুষের আগমন ঘটছে, তেমনি প্রতিদিন পৃথিবী থেকে বহু মানুষ বিদায়ও নিচ্ছে। যাদের অনেকেই নিজ নিজ জীবনে নিজস্ব কর্মগুণ আর যোগ্যতাবলে হয়েছেন সমাজ, দেশ আর বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিচিত আর সমাদৃত। এদের মধ্যে যেমন রয়েছেন মুমিন মুসলমান তথা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী, তেমনি রয়েছে অমুসলিম বা সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী মানুষও। এদের কেউ যখন দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের অনন্ত অসীমকালের কর্মফল ভোগ করার জগতে পা রাখে। তখন তাদের বিয়োগে আমরা ব্যথিত হই। নানা উপায়ে তাদের স্মরণ করি। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কল্যাণবাণী উচ্চারণ করি।

কিন্তু এসব ক্ষেত্রে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া ব্যক্তি যদি আল্লাহতে বিশ্বাসী হন। কর্মজীবনে তিনি যত অপরাধীই হোন না কেন তার জন্য কল্যাণ কামনা আর ক্ষমা প্রার্থনা করার অবকাশ সব মুসলমানের রয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালি দিয়ো না; কেননা তারা তাদের কৃতকর্মে পৌঁছে গেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৯০)

আর যদি তিনি আল্লাহতে বিশ্বাসী না হন, তাহলে মুসলিম জীবন অনুসরণকারী কোনো মানুষ ইচ্ছা করলেই তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাসূচক বাণী উচ্চারণ করতে পারবেন না। এ জন্য ইসলাম তাকে কিছু রীতি শিখিয়েছে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী জীবন অতিবাহিত করে গিয়ে থাকেন তার জন্য কোনো কল্যাণবাণী তো পরের কথা তার জন্য মনে ব্যথা অনুভব করারও সুযোগ নেই। আর যদি সে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী না হয়ে আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয়। তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ও তার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করে একজন মুসলিম তার জন্য হৃদয়ে শূন্যতা অনুভব করতে পারেন। তার বিয়োগে মনে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু তার জন্য ক্ষমা ও পরকালীন কল্যাণের দোয়া করার অবকাশ নেই।

মুসাইয়্যিব ইবনে হাজন (রা.) বলেন, যখন আবু তালিবের মৃত্যুর আলামত দেখা দিল তখন রাসুল (সা.) তাঁর কাছে গেলেন। এ সময় আবু জাহেল এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উমাইয়্যাহও সেখানে বসা ছিল। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে চাচা! আপনি পড়ুন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন পেশ করব।’ এ কথা শুনে আবু জাহেল ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইয়্যাহ বলল, হে আবু তালিব! তুমি কি মৃত্যুর সময় (তোমার পিতা) আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করতে চাও? (সা.) বলেন, ‘হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব।’ তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : ‘নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা আত্মীয় হয়। তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে নিশ্চয়ই তারা প্রজ্বালিত আগুনের অধিবাসী।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৩; বুখারি, হাদিস : ৪৬৭৫)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, এ ক্ষমা ব্যাপক ছিল, ইবরাহিম (আ.) তাঁর বাবার জন্য যে রকম সুপারিশ করার সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন, রাসুল (সা.) তাঁর চাচার ব্যাপারেও সেটি করতে চেয়েছিলেন, তারপর সেটি আয়াত অবতীর্ণ করে আল্লাহ তাআলা রহিত করে দেন। [ফাতহুল বারী (৮/৫০৭-৫০৮)]

যে আবু তালিব তাঁর জীবন বাজি রেখে ভাতিজা মুহাম্মদ (সা.)-কে সাপোর্ট দিয়ে গেছেন, ঈমান না এনে মৃত্যুবরণের কারণে তাঁর জন্য রাসুল (সা.)-কে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই মুসলিমদের জন্য যেভাবে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করা হয় সেভাবে অমুসলিমদের জন্য করা যাবে না। তবে তারা যদি ভালো মানুষ হয়ে থাকেন, প্রিয় মানুষ হয়ে থাকেন, বড়জোর তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা যেতে পারে। তাদের পরিবারবর্গ অসহায় হলে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা যেতে পারে। যেন পরবর্তী সময়ে তারা ঈমান ও ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়।

লেখক : প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও মুহাদ্দিস।

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা