kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বসেরা হাফেজদের জাতীয় পদক দেওয়া উচিত

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাকিব আল হাসান বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার, জাতীয় তারকা ও জাতীয় বীর। হিফজ অঙ্গনেও আছেন এক সাকিব। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার হাফেজ নাজমুস সাকিব। অসংখ্য তারকা হাফিজ রয়েছেন আমাদের, যাঁরা জীবন্ত ‘লাওহে মাহফুজ’ তুল্য। বাংলাদেশের হাফেজে কোরআনরা পাচ্ছেন বিশ্বসেরা কৃতিত্বের সম্মাননা, অথচ তাঁরাই থেকে যাচ্ছেন অচেনা, বঞ্চিত ও খানিকটা অবহেলিত।

বিশ্বনন্দিত আল্লামা শফী (রহ.)-এর শূন্যস্থানে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান নির্বাচিত হওয়া মাওলানা মাহমুদুল হাসান মাত্র ২৮ দিনে হাফেজ হয়ে প্রখর স্মৃতিশক্তির প্রমাণ রেখেছেন। তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয়, নিভৃতচারী মানুষ গড়ার কারিগর ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কৃতী সন্তান। তিনিই ময়মনসিংহ মহানগরীর উপকণ্ঠে চরখরিচায় গড়েছেন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক স্বয়ংক্রিয় গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ।

ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর জামাতা মো. নুরুল হক মিয়া, যাঁর আট সন্তান পবিত্র কোরআন বুকে ধারণ করে ইসলামের দ্যুতি ছাড়াচ্ছেন দেশ-দেশান্তরে।

 

[হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী]

২০১৯ সালে জর্দানে অনুুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। তিনি ২০১৪ সালে পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিযোগিতায় বাছাইকৃত প্রায় ৩০ হাজার হাফেজের মধ্যে সেরাদের সেরা হন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের বিজয়কেতন উড়িয়ে ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালে জেদ্দা, বাহরাইন, কুয়েতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সুনাম বয়ে আনেন।

অনুরূপভাব বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ভারত, বাহরাইনসহ দেশে দেশে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বীর বাঙালির গর্বিত ঐতিহ্যে নিজেদের মেলে ধরেছেন যেসব শিশু-কিশোর হাফেজ-কারি, তাঁরাও এই দেশ ও মাটির খাঁটি সোনা ও জাতীয় তারকা। অথচ আমরা কতজন তাঁদের খবর রাখি? যেমন—

হাফেজ নাজমুস সাকিব। তিনি ২০১২ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে, ২০১৩ সালে দুবাইয়ে, ২০১৪ সালে মক্কায়, ২০১৫ সালে খার্তুমে এবং ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিফজ ও কিরাত প্রতিযোগিতায় অপরাজিত প্রথম শিরোপা অর্জন করেন।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ১০৩টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দির হাফেজ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মনোমুগ্ধ তিলাওয়াতে তাক লাগিয়ে পেলেন আড়াই লাখ দিরহাম (৫৬ লাখ টাকা)। তিনি পিএইচপি কোরআনের আলোসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবার মেধার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

২০১৭ সালে ‘বাদশা আবদুল আজিজ আল সৌদ’ আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় ৭৩টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম হন বাংলাদেশের কুমিল্লার মুরাদনগরের হাফেজ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি মিসর, দুবাই, জেদ্দার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করে সুনাম বয়ে আনেন।

মানিকগঞ্জের কৃতী সন্তান হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া। ২০১৫ সালে মিসরের এক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন ৫০ হাজার পাউন্ড। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১৬ সালে লাভ করেন ‘কুয়েত অ্যাওয়ার্ডে’র মতো দামি সম্মাননা। হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের বিজয়কেতনকে মেলে ধরেছেন  শ্রেষ্ঠত্বের সুউচ্চ শিখরে।

বিশ্ব দরবারে বাংলা ও বাঙালির আরেক গর্বিত সন্তান হাফেজ আবু রায়হান। তিনি কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল জিম টিভির এক রিয়ালিটি শোতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১২-১৩ বছরের এ খুদে হাফেজ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার শিক্ষার্থী।

এমনই বিশ্ববরেণ্য হাফেজে কোরআনের স্থান ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের হাফেজ হেলাল, হাফেজ ইয়াকুব হোসাইন তাজসহ আরো অনেকেই।

পরিশেষে বলি, ইতিহাসের ক্রমধারায় আমাদের আলেমসমাজের অবস্থান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। আজ মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগি, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, শামসুল উলামা অধ্যক্ষ আবু নসর ওয়াহিদ, মাও. আব্দুল ওয়াহহাব পিরজি হুজুর, মাও. আব্দুর রহমান কাশগড়ি, মাও. সৈয়দ আমিমুল ইহসান, মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ খাঁ, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ (রহ.) নেই। তবু ‘ইসলাম ও মুসলমান’ বাংলাদেশের দ্যুতি বিশ্বময় উজ্জ্বল করছেন আমাদের নতুন প্রজন্মের সাহসী হাফেজরা। দেশে তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি জাতীয় পদক ও পুরস্কার! দেশের বরেণ্য হাফেজদের জাতীয় পদক ও পুরস্কারে ভূষিত করলে জাতির গর্ব ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা