kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

নওমুসলিমের কথা

কোরআন তিলাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণ

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরআন তিলাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণ

ইংল্যান্ডের একটি মসজিদের পাশে বসবাস করতেন সারা। কোনো এক রমজানে তারাবির কোরআন তিলাওয়াত মুগ্ধ করে তাঁকে। এরপর ধীরে ধীরে কোরআনে আকৃষ্ট হন এবং একসময় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। লেখিকা আজিজা ক্লাউডার কাছে নিজের ইসলাম গ্রহণের বিবরণ এভাবে তুলে ধরেন তিনি

এটা রমজান মাসের ঘটনা। প্রতিদিন রাতের নামাজে (তারাবি) কোরআনের যে তিলাওয়াত হতো, তা শুনতাম। আমি ১০ বছর একটি মসজিদের পাশে বসবাস করছি। কিন্তু মসজিদ থেকে আসা কোনো শব্দ আমাকে প্রভাবিত করেনি। আমার স্বামী মুসলিম ছিলেন না এবং আমি একটি ক্যাথলিক খ্রিস্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। যাহোক, কোরআন তিলাওয়াত আমাকে মুগ্ধ করল। রমজান চলে যাওয়ার পর কোরআন তিলাওয়াত শোনা অব্যাহত রাখলাম। সুযোগ পেলেই আমি তা শুনতাম। কোরআন শুনে আমার হৃদয় প্রশান্ত ও তৃপ্ত হতো। কোরআনের একটি শব্দও আমি বুঝতাম না, তবু প্রতিটি শব্দ আমার মনে রেখাপাত করত। আমার অস্থির হৃদয় প্রশান্ত করতে এটার প্রয়োজন ছিল।

এক প্রশান্ত রাতে কোরআনের চমৎকার এ তিলাওয়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্পৃহা অদম্য হয়ে উঠল। আমি সেসব মানুষের একজন হতে চাইলাম, যারা কোরআন তিলাওয়াত করে এবং তা শোনে; সেসব শব্দ-বাক্যের অংশ হতে চাইলাম, যা আমি অসংখ্যবার শুনেছি। আর চাইলাম, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এই শান্তি ও তৃপ্তি অনুভব করতে এবং কোরআনকে জীবনের অংশ বানাতে। নিস্তব্ধ সে রাতে আল্লাহ আমার অন্তরকে এর জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি মেঝেতে বসলাম, একা—শুধু আল্লাহর সঙ্গে। একজন বান্দা মহান আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত হলো এবং কলেমা শাহাদাত পাঠ করল।

দুই বছর পর্যন্ত আমি কাউকে আমার গোপন এ সংযোগ এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কথা বললাম না। আমি মানুষের বাজে মন্তব্য ও অবমূল্যায়নের ভয়ে তা গোপন করেছিলাম। তবে আমি চাচ্ছিলাম আল্লাহর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরো গভীর হোক। ফলে আমি গোপনে ইবাদত করতাম, গোপনে ইন্টারনেটে কোরআন তিলাওয়াত শিখতাম এবং আমার প্রভু ও আমার ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম। দুই বছর পর আমি অনুভব করলাম, আল্লাহর প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস, তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, একটি আবাসিক ইসলামী স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষকের কাছে ইসলাম শিখব। প্রতি শনি ও রবিবার আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতাম এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর পাঠ নিতাম। ইসলামী স্কুলের একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থী হিসেবে পবিত্রতা ও ইবাদতের পদ্ধতিগুলো শিখলাম। তিনি আমাকে মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দিলেন।

আমার স্বামী যখন স্পষ্ট বললেন তিনি ইসলাম গ্রহণ করবেন না, তখন আমি আবাসিক ইসলামী স্কুলে স্থানান্তরিত হলাম। এর পরও আমি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক চাইলাম। স্কুলে অবস্থান ও পাঠগ্রহণের কারণে অন্য মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। তাদের অনেকেই আমার চেয়ে বয়সে ছোট ছিল। কিন্তু আমরা সবাই আল্লাহ ও তাঁর দ্বিনের পরিচয় লাভের প্রশ্নে অভিন্ন ছিলাম। ইসলামী স্কুলে অবস্থানের সময় থেকে আমি হিজাব পরতে শুরু করি। প্রথমে কর্মস্থলে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু এখন তারা আমার পরিবর্তন গ্রহণ করে নিয়েছে এবং তাদের অন্তরে বুঝ দান করেছে। আল্লাহর অনুগ্রহে আমি এখন ভালো আছি।

অ্যাবাউট ইসলাম থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা