kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

মুহাম্মদ (সা.) কেন আরবে এসেছেন

তাজুল ইসলাম   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব নবীর শিক্ষা ও জ্ঞান নিয়ে মহানবী (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁকে বিশ্ব মানবতার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি যেমন আরবের নবী, তেমনি আমেরিকার নবী, তেমনি আফ্রিকার নবী, তেমনি বাংলাদেশের নবী, তেমনি ভারতের নবী, তেমনি চীনের নবী। ইরশাদ হয়েছে, ‘পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফায়সালাকারী গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ১)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, গোটা আসমান ও জমিনে যাঁর রাজত্ব।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৮)

প্রশ্ন হলো, মুহাম্মদ (সা.) যদি বিশ্বের নবী হন, তাহলে শুধু আরবে কেন এসেছেন? এর জবাব হলো, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মক্কা নগরী পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লাহ কাবাঘর মক্কায়ই স্থাপন করেন। ভৌগোলিকভাবে সৌদি আরবই পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। পৃথিবীর প্রথম ভূমিই মক্কা বা বাক্কা। ইসলাম আসার বহু আগ থেকে মক্কা ঐতিহাসিক নগরী। বহু নবী-রাসুলের পদচিহ্ন লেগে আছে এই পুণ্যভূমিতে। কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেই চারদিকে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এ কারণে মক্কাকে উম্মুল কুরা বা নগরীগুলোর মূল বলে অভিহিত করা হয়েছে। (তারিখে তাবারি : ১/৪৯; আল-বাদউ ওয়াত্তারিখ : ৪/৮১-৮২)

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দিক থেকেও মক্কা নগরী মানবসভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এই নগরীতে হাজের (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত সাফা-মারওয়া, জমজম কূপ ও জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদসহ আল্লাহ তাআলার অনেক নিদর্শন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৮)

এটা হলো প্রথম জবাব, যেহেতু মক্কা গোটা বিশ্বের মধ্যভাগে অবস্থিত। তাই মহানবী (সা.)-কে মক্কায় পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মহানবী (সা.)-এর সময়ে পৃথিবীর মধ্যে নামিদামি ও আলোচিত জাতি ছিল চারটি। রোম, পারস্য, গ্রিক ও হিন্দুস্তানি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এসব দেশে সভ্যতার ছোঁয়া লেগেছিল। ভারতে সিন্ধু সভ্যতা। রোম ও পারস্যে রাজা-বাদশাহ ও সাম্রাজ্যবাদী কর্মতৎপরতা ছিল। গ্রিক দর্শন ছিল গ্রিসে। কিন্তু আরবে কোনো সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। আরব জাতি ছিল একেবারে আদিম ও অজ্ঞ। মহানবী (সা.)-এর সময়ে মাত্র ১৪ থেকে ১৯ জন শিক্ষিত মানুষ ছিল গোটা আরবে। সুতরাং মহানবী (সা.)-কে আরবে পাঠানো হয়েছে সেখানে নতুন সভ্যতার জন্ম দেওয়ার জন্য। তিনি আরব সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন, একজন মহামানব কিভাবে একটি পতিত জাতিকে বিশ্বের প্রথম সারির জাতিতে পরিণত করেছেন। তিনি কারো কাছ থেকে সভ্যতার জ্ঞান শেখেননি। তিনি কারো কাছ থেকে ‘কপি পেস্ট’ করেছেন—এ কথা কেউ যেন বলতে না পারে, তাই তাঁকে ‘উম্মিদের’ (অজ্ঞদের) মধ্যে পাঠানো হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ২)

তাই মহানবী (সা.)-কে নিরক্ষর জাতি আরবদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা