kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নেতৃত্ব ও দায়িত্ব চেয়ে নিতে নেই

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেতৃত্ব ও দায়িত্ব চেয়ে নিতে নেই

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। ইসলাম যোগ্য লোকের পদপ্রাপ্তিকে সাধুবাদ জানায়। অন্যদিকে নেতৃত্বের মোহকে প্রচণ্ডভাবে অপছন্দ করে। এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, হে আবদুর রহমান, তুমি কখনো নেতৃত্ব চেয়ে নিয়ো না। কেননা তুমি যদি চেয়ে নিয়ে তা লাভ করো, তাহলে তোমাকে ওই দায়িত্বের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে (অর্থাৎ তুমি দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাবে, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাবে না)। আর না চাইতেই যদি তা পাও তাহলে তুমি সে জন্য সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৭১৪৭; মুসলিম, হাদিস : ১৬৫২ আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এলাম। আমার সঙ্গে ছিল আশআরি গোত্রের দুজন লোক। তাদের একজন ছিল আমার ডানে এবং অন্যজন ছিল আমার বামে। তারা দুজনেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কার্যভার চেয়ে বসল। নবী করিম (সা.) সে সময় মিসওয়াক করছিলেন। আমি তাঁর ঠোঁটের নিচে মিসওয়াক কিভাবে রয়েছে আর ঠোঁট সংকুচিত হয়ে আসছে সে দৃশ্য এখনো যেন দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, হে আবু মুসা বা হে আবদুল্লাহ বিন কায়েস! ব্যাপার কী? ওদের কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, তারা দুজন যেমন তাদের মনের কথা আমাকে জানায়নি, তেমনি এখানে এসে তারা যে কার্যভার চেয়ে বসবে তাও আমি বুঝতে পারিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেসব পদ আমাদের রয়েছে তা যে চেয়ে নেয়, আমরা কখনই তাকে সে পদে নিযুক্ত করব না। তবে হে আবু মুসা, আবদুল্লাহ কায়েস! তুমি (অমুক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য) যাও। তারপর তিনি তাঁকে ইয়েমেন প্রদেশের শাসক করে পাঠালেন। (মুসলিম, হাদিস : ১৮২৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা শাসনক্ষমতা লাভের জন্য খুব আগ্রহী হবে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তা লজ্জা (ও আফসোসের) কারণ হবে। দুধদানকারী হিসেবে (ক্ষমতার দিনগুলোতে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগের দিক দিয়ে) ক্ষমতা কতই না ভালো। কিন্তু ক্ষমতা থেকে অব্যাহতি কতই না নিকৃষ্ট পরিণামবহ।’ (বুখারি, হাদিস : ৭১৪৮)

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ক্ষমতা দুধদানকারী পশুতুল্য। কারণ ক্ষমতা থাকলে পদ, পদবি, সম্পদ, হুকুমজারি, নানা রকম ভোগ-বিলাসিতা ও মানসিক তৃপ্তি অর্জিত হয়। কিন্তু মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো কারণে ক্ষমতা যখন চলে যায়, তখন আর তা মোটেও সুখকর থাকে না। বিশেষত আখিরাতে যখন এ জন্য নানা ভীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে তখন ক্ষমতা মহা জ্বালা হয়ে দেখা দেবে। (ফাতহুল বারি : ১৩/১২৬)

ক্ষমতা চেয়ে নেওয়া দুটি অবৈধ বিষয়ের বার্তা দেয়। প্রথমত, পার্থিব সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতি লোভ। এ ধরনের লোভ আল্লাহর সম্পদে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে এবং আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ করে।

দ্বিতীয়ত, এতে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবার এবং আল্লাহর সাহায্যের দরকার না লাগার গন্ধ আছে।

কিন্তু যার ক্ষমতাপ্রাপ্তির লোভ ও ঝোঁক নেই এমন ব্যক্তি বিনা আবেদনে ক্ষমতা পেলে এবং দায়িত্ব পালনে নিজেকে অক্ষম মনে করলেও তার যেকোনো সমস্যায় আল্লাহ তাআলা সাহায্য করবেন, তাকে তার নিজের ক্ষমতার ওপর ছেড়ে দেবেন না। কেননা সে তো এই বিপদ নিজ থেকে ডেকে আনেনি। যে স্বেচ্ছায় বিপদ ডেকে আনেনি তার ভার বহনের ব্যবস্থা করা হয় এবং তার দায়িত্ব পালনের যোগ্যতাও তৈরি করে দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় আল্লাহর ওপর তার ভরসা জোরদার হয়। আর বান্দা যখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে কোনো কাজে অগ্রসর হয় তখন সফলতা তার হাতে এসে ধরা দেয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা