kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

গ্রন্থ পর্যালোচনা

আল্লাহ নামের পঙক্তিমালা

আতাউর রহমান খসরু   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আল্লাহ নামের পঙক্তিমালা

পরমাত্মার সঙ্গে মানবাত্মার যে অবিনাশী সম্পর্ক, তা বিশ্বাস ও প্রেমের। এই মহাজগতে অতিক্ষুদ্র মানুষ কিভাবে কায়া ও ছায়াহীন মহান স্রষ্টার পরিচয় লাভ করবে? অথচ তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর স্মরণ ও তাঁর ইবাদত-আনুগত্য অপরিহার্য। মহান স্রষ্টা আল্লাহর পূর্ণ পরিচয় মানবসাধ্যের বহু ঊর্ধ্বে। মানুষ শুধু তার চেষ্টাটুকুই করতে পারে। মানবজাতিকে বিশ্বাস ও প্রেম নিবেদন, প্রার্থনা ও আত্মসমর্পণের সুযোগ দিতে আল্লাহ প্রকাশ করেছেন তাঁর কিছু গুণবাচক নাম। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী এর সংখ্যা ৯৯টি। তবে সব গুণের আধার মহান স্রষ্টার পরিচয় যে কোনো সংখ্যায় আবদ্ধ নয়, তা সহজেই অনুমেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর আছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮০)

ভালোবাসা যখন বিশ্বাসদীপ্ত হয় বা বিশ্বাসে যুক্ত হয় প্রেমের জ্যোতি, তখন তাতে আসে গতি, তা হয়ে ওঠে ছন্দোময়। বিশেষত প্রেম নিবেদক যদি কবি হন, তখন আল্লাহর প্রেম ও ভালোবাসায় জ্যোর্তিময় হয়ে ওঠে তাঁর কবিতা ও কাব্য। ‘মৈত্রেয়’ আল্লাহ-প্রেমে নিবেদিত তেমন একটি কাব্য সাধনা, ছন্দে-কাব্যে আল্লাহর গুণবাচক নামের মহিমা তুলে ধরার প্রয়াস, সর্বোপরি মহান স্রষ্টার সমীপে আত্মনিবেদন। কবি মোস্তফা ইকবাল নিজেই বলেছেন, ‘অসীম জ্যোতির ভেতরে এ কবিতাগুলো আল্লাহর সকাশে আত্মসমর্পণও বলা যায়। এর অক্ষর, শব্দ, ছন্দ, অন্ত্যমিল, উৎপ্রক্ষা, উপমা, পঙক্তির যে আবেগ, তা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অনুরণন ঢের; কাব্যিক মর্মে আমার প্রেম ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।’

আল্লাহর গুণবাচক ৯৯ নাম উপজীব্য করে লেখা কাব্যের শুরুতে কবি যুক্ত করেছেন ‘আল্লাহ’ নামক একটি দীর্ঘ কবিতা। করোনা মহামারির রমজানে লেখা এ কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে কবির আত্মিক ও আধ্যাত্মিক ভাবনা ও মুক্তির বিনীত প্রার্থনা, ভাষা পেয়েছে যাপিত জীবন ও অন্তহীন অপার্থিব জীবন নিয়ে কবির আত্মোপলব্ধি। ধ্যানস্থ কবি বলেন, ‘তাঁরই সৃষ্টির অমেয় মর্মস্থলে লৌকিক ও অলৌকিক/অনুরণন শৈল্পিক খেলা পূর্ণতা সকল/সে প্রেমের আবর্তনে মানবজীবন-অবনী যাপন।’

আল্লাহর ৯৯ নামের আরবি-বাংলা উচ্চারণের পর কবি শাব্দিক অর্থ যোগ করেছেন। অতঃপর নিজস্ব উপলব্ধি থেকে ছন্দে-কাব্যে লিখেছেন তার মর্মকথা। শাশ্বত অর্থ-মর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেমাবেগ, লেগেছে সময় ও বাস্তবতার ছোঁয়া। যেমন—‘মুকিতু’ (অন্নদাতা) কাব্যানুবাদে কবি লিখেছেন, ‘নিশ্চয়ই খাদ্য আয়োজন আপনার/আপনিই অন্নদানকারী, সৃষ্টি ও বরাদ্দে স্নিগ্ধ আন্তরিক/মানুষের দোষে লোভে কাড়াকাড়ি বৈষম্য প্রাচীর/সে হিসাব হবে কড়ায়-গণ্ডায় দুনিয়ার চতুর্দিক।’

চমৎকার অঙ্গসজ্জা ও রুচিশীল প্রচ্ছদের ছোট কাব্যগ্রন্থটির মূল্য ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা নিবেদন করা হয়েছে করোনাকালীন কর্মহীন মানুষের সাহায্যার্থে।

 

মন্তব্য