kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের ৪ বিধি-নিষেধ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ইসলামের ৪ বিধি-নিষেধ

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। তার সম্মান ও মর্যাদাও সবার চেয়ে বেশি। এই মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ইসলাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনে চারটি বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে।

১. ছোটরা বড়দের রুমে প্রবেশের আগে তিন সময়ে অনুমতি চাইবে : ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে : ফজরের আগে, দুপুরে যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখো এবং এশার পর। এই তিন সময় গোপনীয়তার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তোমাদের একে অন্যের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াত বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৫৮)

২. অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ নিষিদ্ধ : কখনো অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। তার অনুমতি পেতে যত সময়ই লাগুক না কেন! এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ কোরো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদের সালাম না দেবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ২৭)। যদি কারো দরজায় আঘাত করে তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও সে সাড়া না দেয়, তাহলে ফিরে যাওয়া উচিত। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আবু মুসা (রা.) উমর (রা.)-এর কক্ষে প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তিনি কোনো অনুমতি পাননি। উমর (রা.) তাঁকে পরে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি ফিরে গেলে কেন? তিনি জবাব দেন, আমি আপনার কাছে প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম যেমনটা রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়েছিলেন, কিন্তু আপনি কোনো অনুমতি দেননি, তাই আমি প্রবেশ করিনি।’ তিনি বলেন, ‘তোমাকে এর প্রমাণ নিয়ে আসতে হবে।’ অতঃপর তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সত্যি কথা বলতে বলেন, অতঃপর তারা তা করল এবং তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। (ইবনে মাজাহ)

৩. গুপ্তচরবৃত্তি নিষিদ্ধ : কখনোই কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়—হোক সে স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন বা অন্য কেউ। এবং কারো ওপর গুপ্তচরবৃত্তিও নিষিদ্ধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, অধিকাংশ অনুমান থেকে বেঁচে থেকো। নিশ্চয়ই কতক ধারণা গুনাহ। এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না...।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

৪. অন্যের দোষচর্চা নিষিদ্ধ : পরনিন্দা বা দোষচর্চা  সমাজে সম্পর্কহীনতা ও হানাহানির পরিবেশ তৈরি করে। এর মাধ্যমে অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এই ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘...তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি স্বীয় মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

আবু হুরায়রা (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, এটা কিভাবে? তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি ব্যভিচার করার পর তাওবা করলে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। কিন্তু যে গিবত করে তার গুনাহ প্রতিপক্ষ মাফ না করা পর্যন্ত মাফ হয় না।’ (তিরমিজি,   হাদিস : ২৪১২)। যখন আমাদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়, তখন আমরা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠি। তাই কোরআনের আয়াত ও হাদিস অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে আমরা অন্যদের সচেতন করতে পারি এবং নিজেরা আমল করতে পারি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা