kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

যখন আমল না করেও সওয়াব মেলে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফর করে তখন সুস্থ ও নিজ অবস্থানে থাকাকালীন যে পরিমাণ আমল করত, সে পরিমাণ আমলের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৬)

আলোচ্য হাদিসে মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহেরই প্রকাশ পেয়েছে। হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) ভালো কাজে অভ্যস্ত হওয়ার পুরস্কার এবং মুমিনের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করেছেন। কেননা আমল না করার পরও শুধু নেক অভ্যাসের কারণে আল্লাহ বান্দাকে পুণ্যদানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করবেন। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, ‘সুস্থতার সময়কে অসুস্থতার সময়ের জন্য এবং জীবনকে মৃত্যু-পরবর্তী সময়ের জন্য পাথেয় সংগ্রহ কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১৬)

 

কখন আমল না করেও সওয়াব পাওয়া যায়

হাদিসবিশারদরা বলেন, যখন বান্দা কোনো আমলের দৃঢ় ইচ্ছা করে এবং ভালো কাজে এমন অভ্যস্ত হয় যে বাধা-বিপত্তি না থাকলে সে অবশ্যই আমলগুলো করত। এ ছাড়া এমন ব্যক্তি রোগ ও সফরের কষ্ট সহ্য করার সওয়াবও লাভ করবে। একইভাবে যে ব্যক্তি নিষ্ঠার ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত করে—কেননা সে ত্রুটিমুক্ত ইবাদত করতে অপারগ। আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাকে পরিপূর্ণ ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যখন আল্লাহ কোনো মুসলিমকে শারীরিক ব্যাধি দিয়ে পরীক্ষা করেন, তখন তিনি বলেন—সে সুস্থ অবস্থায় যে ভালো কাজ করত তার জন্য সে কাজের সওয়াব লিপিবদ্ধ কোরো। যদি সে সুস্থ হয় তবে তিনি তাকে গোসল করান এবং পবিত্র করান। আর যদি সে মারা যায় তবে তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার প্রতি দয়া করেন।’ (মিরকাত : ৪/১৮৭২)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আল্লাহ বলেন, অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ও সামর্থ্যবান থাকাকালীন এবং মুসাফির তার অবস্থানে থাকাকালীন যে আমল করত তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান তার জন্য লেখো।’ (জামিউ আহাদিসিল কুদসিয়্যা, হাদিস : ৮৪৪)

 

ফরজ আমলে অবকাশ নেই

আল্লামা ইবনে বাত্তাল (রহ.) বলেন, ‘আলোচ্য হাদিসে বান্দার জন্য যে পুরস্কার ও অবকাশের কথা বলা হয়েছে তা কেবল নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফরজ ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়। অসুস্থতা ও সফরের কারণে ফরজ ইবাদত স্থগিত হয় না।’ (ফাতহুল বারি : ৬/১৫৯)

তবে সফর ও অসুস্থতার কারণে ফরজে শিথিলতা আসে। যেমন—সফরে থাকলে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ দুই রাকাত আদায় করতে হয় এবং অপারগ হলে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের পরিবর্তে বসে নামাজ আদায়ের অনুমতি পায় এবং তারা পরিপূর্ণভাবে ফরজ ইবাদত আদায়ের সওয়াব লাভ করে।

 লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা