kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রচলিত কুলখানি ও চল্লিশা কি বৈধ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তির নামে তিন দিনের দিন কুলখানি নামে এবং ৪০ দিনের দিন চল্লিশা নামে যে খানার আয়োজন করা হয়, তা ইসলামসম্মত নয়। তবে হ্যাঁ, মৃত ব্যক্তির ইসালে সওয়াবের নিয়তে দিন-তারিখ নির্দিষ্ট না করে গরিবদের খাওয়ানো বৈধ। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে প্রথা বানিয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে খানার আয়োজন করা হয়, ধনী-গরিব সবাইকে আমন্ত্রণ করে এক বিশাল অনুষ্ঠান করা হয়, সামাজিক কারণে অনেকে অর্থ না থাকলেও এমনটি করতে বাধ্য হয়। এ পদ্ধতি গলদ ও গর্হিত।

কোরআন, হাদিস ও সাহাবাদের জীবন থেকে তা প্রমাণিত নয়। কোথাও কোথাও লোক দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ ধরনের খানা খেতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অহংকারীর খাদ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭৫৪)

আরো স্পষ্ট হওয়া দরকার যে কারো মৃত্যুর পর মৃত পরিবারের পক্ষ থেকে খাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তিন দিন মৃতের শোকাহত পরিবারের জন্য খাবারের আয়োজন করার নির্দেশ করেছে ইসলাম। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১৩৪)।

আমাদের সমাজে চল্লিশা, কুলখানি ইত্যাদির মাধ্যমে উল্টো তাদের কাছ থেকে খাবার আদায় করা হয়! অথচ জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমরা [রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে] মৃত ব্যক্তির বাড়ির আনুষ্ঠানিকতা ও খাদ্যায়োজনকে (শরিয়তনিষিদ্ধ) মাতম বলে গণ্য করতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ,  হাদিস : ৬৮৬৬, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬১২)

মূল কথা হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য বছরের যেকোনো দিন যেকোনো ভালো আমল দ্বারা ইসালে সওয়াব করা একটি ভালো কাজ। নগদ টাকা সদকা করা, বিনিময় ছাড়া তিলাওয়াত, তাসবিহ অথবা গরিব-মিসকিনদের খানা খাওয়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে যেকোনো সময় ইসালে সওয়াব করা যায়। তবে দিন-তারিখ নির্ধারিত করে, যেমন—তিনদিনা, সাতদিনা, চল্লিশদিনা বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা নব-আবিষ্কৃত কুপ্রথা। এটি শরিয়তসম্মত না হওয়ায় বর্জনীয়।

 

(রদ্দুল মুহতার : ২/২৪০, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১/৪৩৯-৪৪৭)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা