kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

শিল্পের বিকাশে মহানবী (সা.)-এর অনুপ্রেরণা

হাবিবা রহমান উজরা   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও ছিলেন শিল্পের পৃষ্ঠপোষক। তিনি শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। মুসলিম সমাজের প্রয়োজন ও জীবনমান উন্নয়নে রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিম উদ্ভাবিত শিল্প গ্রহণেও কুণ্ঠিত হননি। যেমন—খন্দকের যুদ্ধে তিনি পারস্যের ‘পরিখা’ খনন পদ্ধতি এবং তায়েফের যুদ্ধে রোমানদের মিনজানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। (ইকতেসাদিয়্যাতে ইসলাম, পৃষ্ঠা ৭০৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময় সাহাবায়ে কেরাম বিচিত্র পেশা ও শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের ভেতর ব্যবসায়ী, কসাই, কামার, কুমার, অস্ত্র প্রস্তুতকারক, দর্জি, সূচিশিল্পী, হাজম ছিলেন।  রাসুলুল্লাহ (সা.) সব বৈধ পেশাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নিজ নিজ পেশায় যেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যত্নশীল হন সেই দীক্ষা দেন। যেন তাঁরা এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট হন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি পরকালীন কল্যাণ কামনা করো এবং পৃথিবীতেও তুমি তোমার অংশটি ভুলো না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)

রাসুলুল্লাহ ও সাহাবাদের যুগে অলস ও জীবনোন্নয়নে অনাগ্রহী লোকদের প্রতি মানুষের দৃষ্টি সুপ্রসন্ন ছিল না। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যখন আমি কোনো ব্যক্তিকে দেখে মুগ্ধ হই, তখন তার কাছে জানতে চাই, তোমার পেশা কী? যদি সে বলে, পেশা নেই। সে আমার দৃষ্টি থেকে পড়ে যায়।’

ইসলাম মানুষকে সম্মানজনক পেশা গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। মানুষের মানবিক গুণাবলি নষ্ট হয় এমন পেশার প্রতি নিরুৎসাহ করা হয়েছে। যেমন— কসাইয়ের কাজ ইসলামে বৈধ হলেও তাতে নিরুৎসাহ। কারণ এতে মানুষের হৃদয়ের কোমলতা নষ্ট হয়। সে নির্দয় হয়ে ওঠে। আল্লামা ইবনে আকিল (রহ.) বলেছেন, ‘সুযোগ থাকার পরও উন্নত পেশা গ্রহণ না করে নিম্ন শ্রেণির পেশা গ্রহণ করা মাকরুহ।’ (ড. কামেল সাখার কায়সি, মাকানাতুল আমালি ফিল ইকতিসাদিল ইসলামি, পৃষ্ঠা ১৮২)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পর খোলাফায়ে রাশেদা, উমাইয়া ও আব্বাসী যুগে মুসলিম সাম্রাজ্যের আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে তার জীবনযাত্রার মানও উন্নত হতে থাকে। এ সময় মুসলিম বিশ্ব ইউরোপ, পারস্য ও ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হওয়ায় উন্নত মানের পণ্যের চাহিদাও তৈরি হয় মুসলিম বিশ্বে। বিশেষত আব্বাসীয় শাসকরা বহু শিল্প ও কারিগরি বিদ্যার উন্নয়নে অবদান রাখেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি, শিল্প ও প্রকৌশলে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা