kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

দরুদপাঠে নবিপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ

মুফতি ইবরাহিম সুলতান   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দরুদপাঠে নবিপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ রাসুল। তাই প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসা রাখা আবশ্যকীয় ঈমানি দাবি। কেননা তাঁর ওপর বিশ্বাস ও আনুগত্য ছাড়া আল্লাহকে পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আল্লাহর আনুগত্যের দাবি অর্থহীন। আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র পথই তাঁর রাসুলের একনিষ্ঠ অনুসরণ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। কোরআনের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর ওপর রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

নিম্নে নবীর ওপর দরুদ পাঠের কয়েকটি ফজিলত তুলে ধরা হলো—

 

একবার দরুদ পাঠে ১০ রহমত : সাহাবি আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করবেন, তাঁর ১০টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তাঁর ১০টি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ১২৯৭)

 

দরুদপাঠে পাপমোচন : উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাতের দুই-তৃতীয়াংশ চলে যাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে দাঁড়িয়ে বলতেন, হে মানবগণ! তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো, তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো। কম্পন সৃষ্টিকারী প্রথম শিঙাধ্বনি এসে পড়েছে এবং এর পরপর আসবে পরবর্তী শিঙাধ্বনি। মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। উবাই (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো অধিক হারে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করি। আপনার প্রতি দরুদ পাঠের জন্য আমি আমার সময়ের কতটুকু খরচ করব? তিনি বলেন, তুমি যতক্ষণ ইচ্ছা করো। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বলেন, তুমি যতটুকু ইচ্ছা করো, তবে এর চেয়ে অধিক পরিমাণে পাঠ করতে পারলে এতে তোমারই মঙ্গল হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি কি অর্ধেক সময় দরুদ পাঠ করব? তিনি বলেন, তুমি যতক্ষণ চাও, যদি এর চেয়েও বাড়াতে পারো সেটা তোমার জন্যই কল্যাণকর। আমি বললাম, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ সময় দরুদ পাঠ করব? তিনি বলেন, তুমি যতক্ষণ ইচ্ছা করো, তবে এর চেয়েও বাড়াতে পারলে তোমারই ভালো। আমি বললাম, তাহলে আমার পুরো সময়টাই আপনার দরুদপাঠে কাটিয়ে দেব? তিনি বলেন, তোমার চিন্তা ও কষ্টের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

 

কিয়ামতের দিন নবীজির নিকটবর্তী অবস্থান : যে ব্যক্তি বেশি পরিমাণে আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে নবীর কাছেই অবস্থান করবে। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে, যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৪)

 

নবীজির সুপারিশ অবধারিত : রুওয়াইফি ইবনে ছাবিত আল-আনসারি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ‘আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আনজিলহুল মাকআদ আল মুকররাব, ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাহ’—এই দরুদ পাঠ করবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে। (আল মুজামুল কাবির তবরানি, হাদিস : ৪৪৮০)

 

ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায় : সাহাবি আমের ইবনে রবিআহ (রা.) বলেন, আমি একবার আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে খুতবার মধ্যে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে এবং যতক্ষণ সে আমার প্রতি দরুদপাঠরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। অতএব বান্দা চাইলে তার পরিমাণ (দরুদপাঠ) কমাতেও পারে বা বাড়াতেও পারে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯০৭)

 

সদকার সওয়াব পাওয়া যায় : হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে মুসলমানের দান করার সামর্থ্য নেই সে যেন দোয়ায় বলে— ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।’ এটা তার জন্য জাকাত (সদকা) হিসেবে গণ্য হবে। (সহিহ ইবনে    হিববান : ৩/১৮৫)

 

নবীজির কাছে সালাম প্রেরণ : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলার জমিনে বিচরণকারী কিছু ফেরেশতা আছেন, তাঁরা আমার কাছে উম্মতের পক্ষ থেকে প্রেরিত দরুদ-সালাম পৌঁছিয়ে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪২১০)

 

শুক্রবার দিন অধিক দরুদপাঠ : আওস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এদিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল, এদিন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি দরুদপাঠের তাওফিক দান করুন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা