kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নওমুসলিমের কথা

মানুষের জীবনসংগ্রাম আমাকে স্রষ্টামুখী করেছে

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষের জীবনসংগ্রাম আমাকে স্রষ্টামুখী করেছে

জার্মান নাগরিক জন্স হাই স্কুল শেষ করে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আফ্রিকার তানজানিয়ায় যান। সেখানে মানুষের জীবনযাত্রা দেখে প্রভাবিত হন এবং স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। স্রষ্টার পরিচয় খুঁজতে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেন এবং ২০১৭ সালে ইসলাম গ্রহণ করে ইউনুস নাম ধারণ করেন। ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন—

 

মূলত হাই স্কুলের শেষ বছর আমি ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হই। আমার একজন সহপাঠী ১৬ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আমাদের ভেতর অনেক গভীর আলোচনা হতো এবং আমরা ছিলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে শুধু বন্ধুত্বের দাবিতে আমি ইসলাম গ্রহণ করিনি। ধর্মবিশ্বাসে আমি ছিলাম নাস্তিক। ধর্মকেন্দ্রিক কোনো কিছু করার ইচ্ছা আমার ছিল না। বিজ্ঞানই ছিল আমার জীবনের পথ। হাই স্কুল শেষ করার পর জার্মানি ও ইউরোপের বাইরে কোথাও যেতে চাইলাম। চাচ্ছিলাম সম্পূর্ণ আলাদা একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে। আফ্রিকার প্রতি আমার সব সময় মুগ্ধতা ছিল। কেননা আফ্রিকা আমার চেনা জগৎ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিদ্ধান্ত নিলাম তানজানিয়ায় এক বছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করব। এভাবেই আমার জীবনের দরজা খুলে যায়। আফ্রিকায় অবস্থানের সময় কথিত সাংস্কৃতিক ধাক্কা অনুভব করিনি, ভিন্ন পরিবেশে বাস করার সময় যেমনটি অনেকে করে; বরং আমি জার্মানিতে ফিরে আসার পর সাংস্কৃতিক ধাক্কা অনুভব করি।

আফ্রিকায় আমি মানুষের জীবনযাত্রা দেখার পর জার্মানিতে ফিরে এই ভান করতে পারি না যে, ‘সব কিছু ঠিক ছিল এবং আমি স্বাভাবিক জার্মান জীবনে ফিরলাম।’ যে প্রশ্নটি আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল তা হলো—জার্মানিতে আমি যে চমৎকার সুযোগ-সুবিধা লাভ করছি তার জন্য কাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত? এখন আমি জানি প্রবহমান ও পরিষ্কার পানি সাধারণ কোনো প্রাপ্য নয়, আমি তানজানিয়ায় মানুষের জীবনযুদ্ধ দেখেছি এবং দেখেছি, বিনা মূল্যে শিক্ষা সবার জন্য নয়। এসব সুযোগ-সুবিধা কেন আমি পেলাম? এটা কি মা-বাবার জন্য পেয়েছি? না, তা তো নয়। কে আমাকে বিলাসবহুল জীবন দিল? সাধারণ এ প্রশ্নটি আমার ভেতর মানসিক সংকট তৈরি করল।

আর মানসিক সংকট আমাকে ধর্মমুখী করল। আমি খ্রিস্ট, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে পড়লাম এবং ইসলাম সম্পর্কে জানলাম। অন্য ধর্মের মতো ইসলামের ব্যাপারেও আমার লক্ষ্য ছিল তার ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করা, যেন তা আমি সহজেই প্রত্যাখ্যান করতে পারি। কিন্তু আমি ইসলাম সম্পর্কে যত পড়ছিলাম, তত আগ্রহী হচ্ছিলাম, তা আমার বোধগম্য হচ্ছিল। ইসলামের বিরুদ্ধে পাল্টা কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে পারছিলাম না। আমি ইসলামের ভেতর জীবনের অভীষ্ট সত্য খুঁজে পেয়েছি। আর সত্যের বিপরীতে আবেগ ও সাংস্কৃতিক যুক্তি কার্যকর হয় না। আমার কাছে ইসলামকে বিজ্ঞানবান্ধব মনে হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে বহু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে, যা আমাকে এ কথা বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ করেছে যে ইসলাম আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম। এ সত্য উপলব্ধি করার পর আমার ভেতর প্রচণ্ড দ্বিধা তৈরি হলো। একজন নাস্তিক হলে ইসলাম গ্রহণ করব কিভাবে? আবার আমার পক্ষে অতীতের জীবনে ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়। ভান করে থাকলাম, যেন আমি যা পেয়েছি তার কিছুই পাইনি। অবশেষে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি কলেমা শাহাদাত পাঠ করি।

অ্যাবাউট ইসলাম থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

 

মন্তব্য