kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জনের মূল্য

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জনের মূল্য

এক ফোঁটা পানি দিয়ে পিপাসা মেটানো অসম্ভব। পরিচ্ছন্নতা অর্জনেও এক ফোঁটা পানি কোনো কাজেই আসে না। অজুর একটি অঙ্গ ধোয়ার জন্যও এক ফোঁটা পানি যথেষ্ট নয়। এক ফোঁটা পানিতে পকেটের ছোট রুমাল পরিষ্কার করার ইচ্ছা পোষণও অযৌক্তিক। তবে এক ফোঁটা পানি দিয়ে গোটা জীবনের সব গুনাহ ধুয়ে-মুছে সাফ করে ফেলা সম্ভব। 

আল্লাহর ভালোবাসা ও ভয়ে মুমিনের হৃদয়ের আকাশ ভেদ করে যে অশ্রুকণা নয়নের কোণে এসে গড়িয়ে পড়ে, সেই পানির মতো শক্তিশালী পৃথিবীতে আর কিছু আছে কি না তা আমার বোধগম্য নয়। এই অশ্রু বান্দাকে তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জন করিয়ে দেয়। মহান আল্লাহর ক্রোধ থেকে বান্দার মুক্ত হওয়ার পথকে সুগম করে দেয়। কঠিন বিপদ থেকে বান্দাকে মুক্ত করে দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাত ধরনের মানুষকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তার মধ্যে অন্যতম হলো, এমন  ব্যক্তি যে আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়। (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৬)

পৃথিবীর সব পানি দিয়ে যেখানে জাহান্নামের একটি অগ্নিকণা নেভানো সম্ভব নয়, সেখানে মাত্র এক ফোঁটা অশ্রুজলেই জাহান্নামের ভয়াবহ আগুনকে মুহূর্তে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব। যে চোখ মহান আল্লাহর ভয়ে কাঁদে সে চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না। ১. মহান আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে। ২. আল্লাহ তাআলার রাস্তায় যে চোখ (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে নির্ঘুম রাত পার করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৯)

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে যেমন শরীরের তাজা রক্তের বিনিময়ে জান্নাত কেনা যায়, তেমনি মহান আল্লাহর দরবারে এক ফোঁটা অশ্রু ঢেলেও জান্নাত কেনা যায়। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, দুটি ফোঁটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে বেশি প্রিয় আল্লাহ তাআলার কাছে আর কিছু নেই। আল্লাহ তাআলার ভয়ে যে অশ্রুর ফোঁটা পড়ে, আল্লাহ তাআলার পথে (জিহাদে) যে রক্তের ফোঁটা নির্গত হয় এবং আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত কোনো ফরজ আদায় করতে গিয়ে যে চিহ্ন সৃষ্টি হয় (যেমন কপালে সিজদার চিহ্ন)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৬৬৯)

আমরা অনেকে মনে করি, আমরা পাপের সাগরে ডুবে গেছি, আল্লাহ আমাদের হয়তো ক্ষমা করবেন না, আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করবেন না; এগুলো ভুল ধারণা। আল্লাহ রহমানুর রহিম। তিনি দয়ার সাগর। বান্দার এক বিন্দু অনুশোচনার অশ্রু তিনি সহ্য করতে পারেন না। তাই এক ফোঁটা অশ্রু দিয়েই তিনি বান্দার হাজার-কোটি বছরের গুনাহ ধুয়ে সাফ করে দেন। বান্দার জন্য ওয়াজিব হয়ে থাকা জাহান্নামকে তার জন্য চিরতরে হারাম করে দেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার ভয়ে যে লোক কাঁদে, তার জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব যেমন অসম্ভব দোহন করা দুধ আবার পালানের মধ্যে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলার পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনো একত্র হবে না (আল্লাহ তাআলার পথের পথিক জাহান্নামে যাবে না)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৩)

তাই আমাদের উচিত, সুযোগ পেলেই মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা। কৃত গুনাহ থেকে তাওবা করা। যেকোনো সমস্যায়, দুশ্চিন্তায় মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। ইনশাআল্লাহ, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের সব পাপ ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেবেন। এবং আমাদের উভয় জাহানের শান্তি দেবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা