kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কোরআনে ধর্মীয় সম্প্রীতির নির্দেশনা

আতাউর রহমান খসরু   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরআনে ধর্মীয় সম্প্রীতির নির্দেশনা

ইসলাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নির্দেশ দেয়। হিজরতের পর মহানবী (সা.) মদিনায় যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাতে তিনি সব ধর্মের অনুসারীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অমুসলিম নাগরিকদের জন্য ন্যায়ানুগ আচরণের নির্দেশ রয়েছে। যার কয়েক নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 

ধর্মীয় স্বাধীনতা

মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহতে ঈমান আনবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে, যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

 

ন্যায়বিচার করা

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করবে, এটাই আল্লাহভীতির নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা যা করো নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

 

নিরাপত্তা প্রদান

মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বিনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করবেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

 

অমুসলিম মা-বাবার সম্মান

ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি মা-বাবা তোমাকে জোর করে আমার সঙ্গে শরিক করতে—যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মান্য কোরো না। কিন্তু পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সদ্ভাবে। যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন করো। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমার কাছেই। তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আমি তোমাদের অবহিত করব।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৫)

 

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা

আল্লাহ বলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য সব ভালো জিনিস হালাল করা হলো। যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্যদ্রব্য (শর্ত সাপেক্ষে) তোমাদের জন্য হালাল, তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাদের জন্য বৈধ। মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারী (শর্ত সাপেক্ষে) তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো, যদি তোমরা তাদেরকে বিয়ের জন্য মোহর প্রদান করো। প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণের জন্য নয়। কেউ ঈমান প্রত্যাখ্যান করলে তার কাজ নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫)

 

বিতর্কে সংবেদনশীল থাকা

ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া কিতাবিদের সঙ্গে বিতর্ক করবে না, তবে তাদের সঙ্গে করতে পারো, যারা তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনকারী। এবং বলো, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ একই এবং আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৬)

আল্লাহ সবাইকে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতা দান করুন।

 

মন্তব্য