kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইসলামী আইনে অমুসলিম নাগরিকের নিরাপত্তা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইসলাম পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করে। ইসলামী সমাজে অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে কয়েকটি বিধান এখানে উল্লেখ করা হলো—

এক.  কোনো মুসলমান যদি অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করে, তাহলে একজন মুসলমান নাগরিককে হত্যা করলে যেমন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তেমনি অমুসলিমকে হত্যার অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। মহানবী (সা.)-এর যুগে একজন মুসলমান কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে। এই অপরাধে তিনি হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। তিনি বলেন, ‘যে নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার রক্তের বদলা নেওয়ার দায়িত্ব আমারই।’ (ইনায়া, শরহে হিদায়া, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৬)

দুই.  অমুসলিমদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। প্রসিদ্ধ ফতোয়াবিষয়ক গ্রন্থ ‘বাদায়ে’-এর মধ্যে বলা হয়েছে : ‘অমুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চুক্তি করা আমাদের (মুসলমানদের) জন্য বাধ্যতামূলক। মুসলমানরা কোনো অবস্থাতেই এ চুক্তি ভঙ্গ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে অমুসলিমদের পক্ষে তা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ তারা যদি আমাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চায় তাহলে তা করতে পারবে।’ (আদ্দুররুল মুহতার, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১২)

তিন.  অমুসলিমদের পারিবারিক কর্মকাণ্ড তাদের নিজস্ব পারিবারিক আইন অনুসারে চলবে। এ ক্ষেত্রে তাদের ওপর ইসলামী আইন কার্যকর হবে না। খোলাফায়ে রাশেদিন ও তাদের পরবর্তী সব যুগে ইসলামী সরকার এই নীতিই অনুসরণ করেছে।

চার.  অমুসলিম নাগরিকের সম্পদ ও সম্পত্তি দখল করার অধিকার কারো নেই। ওমর (রা.) গভর্নর আবু উবায়দা (রা.)-কে যে ফরমান পাঠিয়েছিলেন, তাতে এ নির্দেশও ছিল : ‘মুসলমানদের অমুসলিমদের ওপর জুলুম করা, কষ্ট দেওয়া এবং অন্যায়ভাবে তাদের সম্পত্তি ভোগদখল করা থেকে বিরত রেখো।’ (কিতাবুল খারাজ, পৃষ্ঠা ৮২)

ইসলাম শান্তি, সাম্য, উদারতা ও মানবিকতার ধর্ম। তাই অমুসলিম ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘জেনে রেখো, যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিক বা সংখ্যালঘুকে আঘাত করে কিংবা তাকে অপদস্থ করে অথবা কর্মচারী নিয়োগ করে তার সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেয়, কিয়ামতের ময়দানে আমি তার বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে মামলা দায়ের করব।’ (আবু দাউদ : ২/৪৩৩)

 

মন্তব্য