kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইতিহাস-ঐতিহ্য

ভারতবর্ষে ৩ কারণে ভিনদেশি মুসলমানদের আগমন

মুফতি তাজুল ইসলাম   

১১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতবর্ষে ৩ কারণে ভিনদেশি মুসলমানদের আগমন

বাংলাদেশে কোনো নবী-রাসুল ইসলামের সুমহান বাণী নিয়ে আগমন করেছেন বলে এখন পর্যন্ত কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, একদল সাহাবি আবু ওয়াক্কাস মালিক বিন ওয়াহাব (রহ.)-এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে চীনে আগমন করেন। [ড. মোহাম্মদ হাননান, প্রাচীন বাংলায় মুসলিম আগমন (তিন খণ্ড), বিশ্বসাহিত্য ভবন, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০১৯]

এরপর একে একে আরব উপদ্বীপ, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে পীর, দরবেশ, ওলি-আউলিয়া ও সুফি সাধকদের এ দেশে আগমন ঘটতে থাকে। তবে ১১ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত এ দেশে ইসলামের সর্বাধিক প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়।

উপমহাদেশে বহিরাগত যেসব মুসলমান এসেছিলেন, তাঁদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

১. এক শ্রেণির মুসলমান ব্যবসা-বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে এসে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। এ ক্ষেত্রে আরব বণিকদের কথা স্মরণীয়। ইতিহাসবিদ সত্যেন সেন তাঁর ‘মসলার যুদ্ধ’ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলা-ভারতে আরব বণিকদের সমুদ্র বাণিজ্যের কথা বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘...কালিকটের বন্দরে অজস্র জাহাজের ভিড়। ...আরব বণিক, গুজরাটের মুসলমান বণিক, এঁদের জাহাজই সংখ্যায় বেশি। চীনা বণিকদের জাহাজের আসা-যাওয়া আছে। ...কিন্তু আরবের বণিকরা সব বণিককে ছাড়িয়ে উঠেছেন। বাণিজ্যে তাঁদের সঙ্গে কেউ এঁটে উঠতে পারে না।’ (সত্যেন সেন : মসলার যুদ্ধ,  দ্যু প্রকাশন, ঢাকা-২০১৬, পৃষ্ঠা ১৭)

২. তাঁদের মধ্যে কতক পীর, দরবেশ শুধু ইসলামের বাণী প্রচারের জন্যই এসেছেন এবং সারা জীবন এখানেই কাটান।

৩. আরেক শ্রেণির মুসলমান এসেছিলেন দেশ জয়ের আকাঙ্ক্ষায় বিজয়ীর বেশে। তাঁদের বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভ হয়। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সিন্ধু প্রদেশে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুরাজ দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে সিন্ধু প্রদেশ জয় করেন। এটা ছিল মুসলমানদের সর্বপ্রথম রাজনৈতিক বিজয়। তাঁর বিজয় সিন্ধু প্রদেশে থেমে থাকেনি; বরং তা বিস্তার লাভ করে পাঞ্জাবের মুলতান পর্যন্ত। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সিন্ধু প্রদেশ পর্যন্ত সামরিক অভিযান পরিচালনার কাজ বহু আগে থেকেই শুরু হয়। মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের আগে কয়েকবার সিন্ধু প্রদেশের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হিজরি প্রথম শতকের মাঝামাঝি সময়ে সিন্ধু অভিযানের সূচনা হয়।

বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ শতকে। ইসলাম ধর্মের উদ্ভবের প্রায় ৬০০ বছর পর বাংলায় মুসলমানদের রাজত্ব শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময় ধরে ভারত মহাসাগরের বাণিজ্য মুসলমান বণিকরা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। কাজেই মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই এখানে মুসলমান বণিকদের আনাগোনা ছিল।

ষষ্ঠ শতক থেকে ত্রয়োদশ শতক সময়কালে আরব ভূগোলবিদদের লেখায় বাংলার উল্লেখ পাওয়া যায়।

দিল্লিতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার আগে বাংলাদেশে আরব বণিকদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাহাড়পুর ও ময়নামতিতে আরবদের মুদ্রা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার আগেই আরব ও পারস্য থেকে অনেক মুসলমান দরবেশ বাংলায় এসেছিলেন। (আকবর আলি খান : বাংলায় ইসলাম ধর্মের প্রসার : ঐতিহাসিক প্রশ্নসমূহের পুনর্বিবেচনা, জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক, গুণীজন বক্তৃতা, ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০১৮, পৃষ্ঠা ২৩)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা