kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইসলামে মানবপ্রকৃতি সুস্থ রাখার তাগিদ

আতাউর রহমান খসরু   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘১০টি বিষয় ফিতরত তথা মানবপ্রকৃতির অনুকূল—মোচ ছাঁটা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙুলের গিঁটগুলো ধোয়া, বগলের পশম উপড়ানো, নাভির নিচের পশম কামানো, প্রস্রাব-পায়খানার পর পানি ব্যবহার করা।’ বর্ণনাকারী বলেন, ১০ নম্বরটি আমি ভুলে গেছি। সম্ভবত সেটি হবে কুলি করার সময় গড়গড়া করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬১)

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক ১০ কাজের উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে আল্লাহ মানুষের আত্মিক পবিত্রতার মতো বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ; যার সঙ্গে তার স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

 

ফিতরত বা মানবপ্রকৃতি কী? 

ফিতরত হচ্ছে এমন বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি, আল্লাহ যা দিয়ে কোনো বস্তু বা প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। যেসব বৈশিষ্ট্যের ওপর বস্তু ও প্রাণীর সুষ্ঠু বিকাশ ও অস্তিত্ব রক্ষা নির্ভর করে। যেমনটি পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কোরো—যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ৩০)

 

মানবপ্রকৃতি রক্ষা করার তাগিদ

ইসলামী বিশ্বাস ও দর্শন মতে, মানবপ্রকৃতির প্রধান অংশ দুটি। এক. অবাহ্য প্রকৃতি। তা হলো রুহ ও কলব তথা আত্মা ও অন্তর। দুই. বাহ্য প্রকৃতি। তা হলো মানবদেহ বা শরীর। ইসলামী শরিয়ত উভয় প্রকার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অবিকৃত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

অবাহ্য প্রকৃতির সুস্থতা : অবাহ্য প্রকৃতি বা আত্মা ও অন্তর অবিকৃত রাখা যায় ঈমান ও তদানুযায়ী আমলের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বিনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করো, আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ করো, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল দ্বিন; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ  তা জানে না।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ৩০)

বাহ্য প্রকৃতির সুস্থতা : বাহ্য প্রকৃতি তথা মানবদেহ ও শরীরের সুস্থতা যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তার অন্যতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। আলোচ্য হাদিসে সেদিকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসলাম স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নোংরা ও অপবিত্র খাবার পরিহার, দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে। বরং ইসলাম স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত বহু বিষয়কে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। যেমন—স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। ইসলাম মিসওয়াক করাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা ও আল্লাহর জন্য সন্তুষ্টির কারণ।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫)

 

মানবপ্রকৃতি অসুস্থ ও নোংরা হলে করণীয়

ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় মানুষের বাহ্য ও অবাহ্য প্রকৃতি অসুস্থ ও দূষিত হতে পারে। মানুষের অবাহ্য বা অভ্যন্তরীণ প্রকৃতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তা থেকে মুক্তির পথ হলো তওবা করা এবং বাহ্য প্রকৃতি অসুস্থ হলে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জন করা। যারা তওবা ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে মানবপ্রকৃতিকে সুস্থ রাখে, তাদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য