kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ব্রিটেনের তিন নওমুসলিম শিশুর অনুভূতি

বেলায়েত হুসাইন   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটেনের তিন নওমুসলিম শিশুর অনুভূতি

ইউরোপের বহু দেশের মতো ব্রিটেনেও বাড়ছে ইসলাম গ্রহণের হার। ইসলাম  গ্রহণের আগ্রহ বাড়ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের মধ্যে। মসজিদে একই কাতারে সারিবদ্ধ হচ্ছেন শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় বলা হয়, বিগত ছয় বছরে যুক্তরাজ্যে মুসলমানের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে এবং মসজিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারে। ব্রিটিশ গেটওয়ে ইনস্টিটিউট নিশ্চিত করেছে, প্রতি মাসে শত শত ব্রিটিশ নাগরিকের ইসলাম গ্রহণে দেশটিতে মুসলিম জনমিতির যথেষ্ট উন্নতি হচ্ছে। বিশেষত ব্রিটেনের স্কুলগুলো মুসলিম শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠছে। এখানে তিন নওমুসলিম শিশুর অভিব্যক্তি তুলে ধরা হলো—

আলেকজান্ডার : সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা লরেন বুথের কন্যা আলেকজান্ডার। বয়স ১২ বছর। ২০১৩ সালের রমজানে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর আগে তার মা লরেন বুথ ২০১০ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের মুসলিম হওয়া প্রসঙ্গে আলেকজান্ডার বলে, ‘মা মুসলিম হওয়ার পর নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। আমিও মায়ের সঙ্গে নামাজে অংশ নিতাম। নামাজ কী—এটা তেমন না বুঝলেও, বুঝতাম এই নামাজই মায়ের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় মা এখন খুব শান্ত ও পরিমার্জিত। মুসলিম হওয়ার পর মায়ের ভেতর ইসলাম সম্পর্কে জানার তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। মা বিভিন্ন ইসলামী সভা-সেমিনারে অংশ নিতেন। আমাকেও সঙ্গে নিতেন। এভাবেই ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায়। কলেমা শাহাদাত শুনলেই মনের ভেতর অন্য রকম অনুভূতি হতো। খুব প্রশান্তি ও স্বস্তি অনুভব করতাম।’ আলেকজান্ডার এখন (লেখার সময়) ব্রিটেনের মাধ্যমিক একটি স্কুলে পড়ছে। নিজের স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলে, ‘হিজাব পরিধান করে যখন স্কুলে যাই, অসংখ্য ছাত্রীর ভিড়ে সবাই আমাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে। আমি আত্মসম্মান বোধ করি। আর ইসলামে প্রবেশের পর আমার মধ্যে বিনয় ও মানুষের প্রতি সম্মানবোধ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।’

জর্জ রেন্ডেভ : ব্রিটেনে বসবাসরত জর্জ রেন্ডেভ নামের ১৪ বছরের আরেক সুইডিশ শিশুও মুসলিম হয়েছে। মসজিদের মিনার তার খুব ভালো লাগত। ইসলামের প্রতি তার ভালোবাসার শুরু সেখান থেকেই। সে বলে, ‘ইসলাম সম্পর্কে চলমান বিতর্ক আমার কান ঝালাপালা করে দিত, তবে আমি এসবকে কেন যেন পাত্তা দিতাম না। ইসলামের বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতাম মসজিদের মিনার। আর এটা এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল।’ বাবার কাজের সূত্রে সপরিবারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসে রেন্ডেভ। রাজধানী আবুধাবিতে কাটানোর সময় তার মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। সে বলে, ‘এখানকার মুসলিমদের জীবন প্রণালী, পারিবারিক সৌহার্দপূর্ণ আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানবোধ দেখে আমি বিমোহিত হই।’

সে আরো বলে, ‘আমি মসজিদের মিনারের ছবি তুলতে খুব আগ্রহী ছিলাম। সব সময় আমি আজানের অপেক্ষায় থাকতাম। যখন মিনার থেকে আজানের ধ্বনি কানে ভেসে আসত, আমি অদ্ভুত ধরনের ভালো লাগা অনুভব করতাম। বাবাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এটি আবেগতাড়িত একটি অস্থায়ী অনুভূতি। আমি সহপাঠী ও বন্ধু আবদুল্লাহর সঙ্গে পরামর্শের কথা ভাবি। বন্ধুদের নির্দেশনা ও ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে ইসলাম সম্পর্কে পড়তে শুরু করি। একসময় পরিবারকে জানাই, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। পরিবার সরাসরি আপত্তি না করলেও আমাকে আরো ভাবার পরামর্শ দেয় তারা। আমি ভাবতে থাকি এবং ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করি।’

শিলা রোদ : ১৫ বছরের এই মেয়ে লন্ডনের অধিবাসী। শিলা রোদ ২০১২ সালে ইসলাম গ্রহণ করে। মূলত ইউরোপীয় মিডিয়ার বিরূপ প্রচারণার কারণে ইসলাম সম্পর্কে তার ভেতর কৌতূহল জন্ম নেয় এবং একসময় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে বলে, ‘মিডিয়ার ষড়যন্ত্র তার কাছে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে প্রতিনিয়ত নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের পরও ব্রিটেনে শত শত মানুষ মুসলিম হওয়ায় আমি স্বর্গীয় সুখ ও আনন্দ উপভোগ করি।’ 

আল মানার ডটকম অবলম্বনে

মন্তব্য