kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বৈরী সময়ে মুসলমানের কর্মকৌশল

আতাউর রহমান খসরু   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একটি বৈরী পরিবেশে ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল। মক্কার পৌত্তলিকতা, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ সমাজ ও স্বেচ্ছাচারী গোত্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইসলামের বিকাশ শুরু হয়। মহানবী (সা.) তাঁর নবুয়তি জীবনে দীর্ঘ ১৩ বছর প্রতিকূল পরিবেশে দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বৈরী পরিবেশে মুসলমানের কর্মকৌশল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন, যার কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হলো—

১. সংঘবদ্ধ থাকা : বৈরী পরিবেশে মুসলিমরা পরস্পর সংঘবদ্ধ থাকবে। ধর্মীয় ও জাগতিক কাজে তারা মুসলিমদের অগ্রাধিকার দেবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি নিজেকে ধৈর্যসহ তাদের সংসর্গে রাখবে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় আহ্বান করে তাদের প্রতিপালককে—সন্তুষ্টি লাভের আশায়। তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দেখে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না। ...’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৮)

২. ধর্মবিমুখ মানুষের সঙ্গ পরিহার করা : বৈরী পরিবেশে মুসলিমদের ধর্মবিমুখ মানুষের সঙ্গ পরিহার করে চলতে হবে। কেননা সংসর্গ মানুষকে আল্লাহমুখী ও আল্লাহবিমুখ করে তোলে। মহান আল্লাহ এসব মানুষের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, ‘... তুমি তাদের অনুসরণ কোরো না, যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করেছি, যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৮)

৩. ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া : আল্লাহ তাআলা প্রতিকূল পরিবেশে মুসলিমদের ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে এবং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ উপেক্ষা করতে বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘লোকে যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং সৌজন্যসহ তাদের পরিহার করে চলো।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল,  আয়াত : ১০)

৪. শত্রুর প্রতিও সুবিচার করা : আদল বা ন্যায়বিচার ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। ইসলাম শত্রুর সঙ্গে সুবিচার করার নির্দেশ দিয়েছে। যেন সে ইসলামের সুমহান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের জন্য কখনো যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করো, এটাই আল্লাহভীতির বেশি নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

৫. সর্বোচ্চ শিষ্টাচার প্রদর্শন : আল্লাহ বৈরী পরিবেশেও মুমিনদের শত্রুর সঙ্গে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার ও প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো ভালো দ্বারা। এতে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধু। এ গুণের অধিকারী করা হয় কেবল তাদেরই যারা ধৈর্যশীল, এ গুণের অধিকারী করা হয় কেবল তাদেরই যারা মহা ভাগ্যবান।’ (সুরা : হা মিম সাজদা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

৬. জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ : ইসলামের সাধারণ নির্দেশনা হলো, মুমিন দ্বিনি কাজের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ করবে। আর পরিবেশ বৈরী হলে প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা। আর তাদের সঙ্গে তর্ক করো উত্তম পন্থায়।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

৭. পরস্পর সহযোগিতা করা : বিপদ, বিপর্যয় ও সংকটের সময় মুমিনরা পরস্পরের সহযোগিতা করবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে পরস্পরের সহযোগিতা করবে এবং পাপ ও সীমা লঙ্ঘনে একে অপরের সহযোগিতা করবে না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

৮. অবিরাম দোয়া করা : অবিরাম দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনের বিপদ ও সংকট দূর করে দেন এবং প্রতিকূল পরিবেশ অনুকূল করে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘বরং তিনিই আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন। ...’ (সুরা : নামল, আয়াত : ৬২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বৈরী পরিবেশে ধৈর্য, প্রজ্ঞা, আল্লাহমুখিতা ও সহনশীলতার সঙ্গে কাজ করার তাওফিক দিন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা