kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাম্প্রতিক মুসলিম বিশ্ব

উইঘুরদের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে চীনের উতসুল মুসলিমরা!

আবরার আবদুল্লাহ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উইঘুরদের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে চীনের উতসুল মুসলিমরা!

চীনের উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে, তখন বেইজিং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করে চলেছে। যাতে আক্রান্ত হচ্ছে চীনের হাইনান দ্বীপের উতসুল মুসলিমরাও। দ্বীপপ্রদেশ হাইনানের সানয়া শহরে বাসকারী উতসুল মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের মতো। সম্প্রতি চীনা সরকার স্থানীয় স্কুল ও সরকারি অফিসে ধর্মীয় পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করেছে। ফলে মুসলিমরা হিজাব বা নিকাব পরিধান করতে পারবে না। সানয়া জিংজিয়াং থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কমিউনিস্ট পার্টির এক নথিতে আরো নির্দেশনা রয়েছে যে, ‘সমস্যা’র সমাধানে কর্তৃপক্ষ মুসলিম পাড়াগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করবে এবং ধর্মীয় ও আরব স্থাপত্যের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে। চলতি মাসের শুরুতে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে উতসুল অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে। চীনের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে ‘তিয়ানয়া উতসুল প্রাইমারি স্কুলে’র বাইরে একদল মেয়ে হিজাব পরে পাঠ্যপুস্তক পড়ছে এবং পুলিশ তাদের ঘিরে রেখেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উতসুল সমাজকর্মী বলেন, ‘প্রশাসনিক আদেশ হলো কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী স্কুলে তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করতে পারবে না। কিন্তু সানয়াতে অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের প্রাত্যহিক জীবনে ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে না। সুতরাং এ আদেশে তাদের কিছু যায় বা আসে না। আমাদের বিষয়টি ভিন্ন। হিজাব মুসলিম সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ। হিজাব খোলা মুসলিমদের জন্য ‘উলঙ্গ’ হওয়ার মতো।’

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিংজিয়াংয়ে এক মিলিয়নের বেশি মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অতীতের সন্ত্রাসী হামলা ও কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৫ সালে স্থানীয় আইন সভায় প্রস্তাব পাস করা হয় যে, ‘উরুমকিতে নিকাব এবং ধর্মীয় চরমপন্থাকে উৎসাহিত করে (হিজাব অর্থে) এমন পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ।’ দুই বছর পর তা সমগ্র জিংজিয়াংয়ে প্রসারিত হয়। কিন্তু সানয়ার উতসুলদের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিষিদ্ধের পেছনে কোনো কারণ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই সমাজকর্মী আরো জানান, ‘যেসব নারী সানয়া নগর সরকারের অধীনে বা চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টির স্থানীয় শাখার অধীনে কাজ করে, গত বছরের শেষের দিকে তাদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়। কোনো কারণ না দর্শিয়ে তাদের শুধু বলা হয়—হিজাব নিষিদ্ধ। সানয়ার নগর সরকার বারবার কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’ কমিউনিস্ট পার্টির একটি নথি গত বছর ‘সাউফ চায়না মর্নিং পোস্টে’র হাতে আসে এবং তা যাচাই করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ‘একটি সম্মিলিত প্রচারণার সর্বশেষ ধাপ হলো সিনসিজমের যেসব মুষ্টিমেয় পাড়ায় উতসুলরা বসবাস করে, খায় ও প্রার্থনা করে সেখানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।’

চার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন থেকেও উতসুলদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়। যার শিরোনাম ‘ওয়ার্কিং ডকুমেন্ট রিগার্ডিং দ্য স্ট্রেংদেনিং অব ওভারঅল গভর্ন্যান্স ওভার হুইসিন অ্যান্ড হুইহুই নেইবারহুড’। সানয়ার বেশির ভাগ অধিবাসী মুসলিম হওয়ার পরও এখানে শুধু দুটি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশনায় আরো আছে, মসজিদগুলো পুনর্নির্মাণের সময় ছোট করা হবে এবং তা ‘আরবীয় স্থাপত্যরীতি’তে নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি দোকানের সামনে চীনা বর্ণে ‘হালাল’ ও ‘ইসলামিক’-এর মতো মুসলিম পরিভাষা সরিয়ে ফেলা হবে। সাউফ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

মন্তব্য