kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অপব্যয় দারিদ্র্য আনে

মুফতি আবদুল্লাহ আল ফুআদ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপব্যয় দারিদ্র্য আনে

সঠিকভাবে সম্পদ উপার্জন ও প্রয়োজনমাফিক ব্যয় করার ক্ষেত্রে ইসলামে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং একে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু অনর্থক সম্পদ অপচয় করা ইসলাম সমর্থন করে না। নিন্দনীয় এই কাজ মানুষকে নানামুখী সংকটে ফেলে দেয়। আমাদের চারপাশে এমন দরিদ্র লোকদের দেখা যায়, যারা একসময় সম্পদ অপচয় করেই আজ নিঃস্ব হয়েছে। তা ছাড়া অপব্যয়কারীর মন্দ প্রবণতাকে আল্লাহ তাআলা নেতিবাচকভাবে আখ্যায়িত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত :২৭)

অপচয়কারীরা আল্লাহর ভালোবাসা থেকেও বঞ্চিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান করো এবং অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালবাসেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

অপচয়ের ক্ষতি অনেক ব্যাপক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অপচয়ের কুপ্রভাব ভিন্ন ভিন্ন সংকট তৈরি করে, যার মাসুল দিতে হয় সবাইকে। জাগতিক নানা সমস্যার পাশাপাশি এই অপচয় ব্যক্তির আখিরাতও নষ্ট করে।

 

অপব্যয় হারাম উপার্জনে উদ্বুদ্ধ করে

অপচয় মানুষকে অর্থ সংকটে ফেলে দেয়। একসময় দেখা যায় সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে নিরুপায় হয়ে সে হারাম উপার্জনের দিকে পা বাড়ায়। যার কারণে তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ওই শরীর, যা হারাম দ্বারা গঠিত তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত স্থান।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৫১৯)

 

পরকালে কঠিন জবাবদিহি

পরকালে মহান আল্লাহর সামনে প্রত্যেককে নিজ সম্পদের হিসাব দিতে হবে—সম্পদ কোথা থেকে সে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত আদম সন্তানের দুই পা তার রবের নিকট থেকে একটুকুও নড়বে না। তার জীবনকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কী কাজে তা বিনাশ করেছে? তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে? আর সে যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছিল সে অনুযায়ী আমল করেছে কি না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৬)

 

অপচয় সম্পদ নষ্টের নামান্তর

অপব্যয় ও অপচয়ের মাধ্যমে সম্পদ নষ্ট হয়, যা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন—১. অনর্থক কথাবার্তা বলা, ২. সম্পদ নষ্ট করা এবং ৩. অত্যধিক প্রশ্ন করা।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪৭৭)

 

অপচয় থেকে বাঁচতে করণীয় মধ্যপন্থা অবলম্বন

মধ্যপন্থা হলো অপচয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি অবস্থা। কিন্তু সমাজে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কেউ খুব বেশি অপচয় করে, আবার কেউ করে কৃপণতা। অথচ ইসলাম এর মাঝামাঝি থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঈমানদার বান্দাদের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না। বরং তারা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৭)

 

লোক দেখানো ব্যয় না করা

অপচয় ও অপব্যয়ের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে লৌকিকতা। সাধারণত মানুষ লোক দেখানোর জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করে, যা অপচয়ের শামিল। লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য সম্পদ ব্যয়কে ইসলাম অনুমোদন করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দান বিনষ্ট কোরো না। সেই ব্যক্তির মতো, যে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য এবং সে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)

এ ছাড়া পরকালীন হিসাব-নিকাশের ভয় করা। রাসুল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্বসূরি সফল মনীষীদের জীবনচরিত পাঠ করা। অপচয়কারীদের সাহচর্য পরিহার করা এবং মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে অপব্যয় ও অপচয় থেকে বিরত থাকা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক : মুদাররিস, মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক

রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা